নগরীর বাকলিয়া থানায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শিশুটির বাবা মামলা করেছেন বলে জানান সিএমপির উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মো. কবির ভূইয়া।

হোসাইন মো. কবির ভূঁইয়া জানান, শিশুটির বাবা বৃহস্পতিবার ঢাকায় ছিলেন এবং মা ছিলেন গার্মেন্টসে। তারা কেউ বাসায় না থাকায় এ দম্পতির তিন সন্তান তাদের নানির কাছে থাকে। এ সুযোগ নিয়ে সন্দেহভাজন মনির কৌশলে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা বা ধর্ষণ করেছে। তবে বিষয়টি মেডিকেল প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরো জানান, বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের গাড়ি আটকে রাখা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রায় ৩০-৩৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে একটি মামলা হবে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পরে আসা সাড়ে তিন বছর বয়সী শিশুটি সুস্থ আছে। নারী চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। শিশুটির ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নমুনা প্রতিবেদন হাতে পেলে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। প্রতিবেদন হাতে পেতে মাসখানেক সময় লাগতে পারে।

গত বৃহস্পতিবার বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে—এমন খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকালের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা। পরে বিকাল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেয়ার দাবি জানায়। বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখেন স্থানীয়রা। এরপর রাত ৮টার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় দুই সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

রাত ১১টার দিকে পুলিশ মোতায়েন বাড়ানো হয়। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ার গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেন। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।