জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মা রহিমা বেগমকে আত্মগোপনে রেখে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন মরিয়ম মান্নান। এমন তথ্য উঠে এসেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রতিবেদনে। আজ সোমবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে খুলনা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন। তাদের করা প্রতিবেদনে মরিয়ম মান্নান, তার মা রহিমা বেগম ও মামলার বাদী মরিয়মের ছোটবোন আদুরী আক্তারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই মামলায় ফাঁসানো আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মুশফিকুর বলেন, প্রধান কার্যালয় থেকে অনুমোদিত হওয়ার পর আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। নিয়মানুযায়ী বাদীকে ওই তদন্ত প্রতিবেদনের ব্যাপারে জানানো হয়েছে। পরে লিখিত আকারেও তা জানানো হবে। বাদী চাইলে প্রতিবেদনের ব্যাপারে নারাজি দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের আবেদন করতে পারবেন।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, রহিমা বেগম যে রাতে নিখোঁজ হয়েছিলেন, সেদিন বিকেলে মাকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এক হাজার টাকা পাঠিয়েছিলেন মরিয়ম।
তদন্তকারী কর্মকর্তার ধারণা, বেশ আগে থেকেই পরিকল্পনা নিয়ে রহিমা বেগমের নিখোঁজের নাটক সাজিয়েছিলেন মরিয়ম মান্নান।
মূলত জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিবেশীকে ফাঁসাতে ওই পরিকল্পনা করা হয়। ওই ঘটনার আগেও রহিমা বেগম বহুবার কাউকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে আবার ফিরে আসেন। এসব ঘটনা তার মেয়ে মরিয়ম মান্নান ও আদুরী আক্তার জানতেন। তবে এবারের ঘটনাটি ছিল পরিকল্পিত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক আব্দুল মান্নান বলছেন, রহিমা বেগম অপহরণ নাটকের পরিকল্পনা মরিয়ম মান্নানই করেছিলেন।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ২৭ আগস্ট রাতে খুলনার দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশা এলাকার বণিকপাড়া থেকে রহিমা বেগম নিখোঁজ হন বলে অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা। রাতে খুলনা নগরের দৌলতপুর থানায় মায়ের অপহরণের অভিযোগে সাধারণ ডায়েরি করেন রহিমা বেগমের ছেলে মিরাজ আল সাদী। পরদিন রহিমা বেগমকে অপহরণ করা হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে ওই থানায় মামলা করেন রহিমা বেগমের মেয়ে আদুরী আক্তার।
পিবিআই পরিদর্শক মান্নান বলেন, মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে তাদের প্রতিবেশী মঈন উদ্দিন, গোলাম কিবরিয়া, রফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ জুয়েল ও হেলাল শরীফের নাম উল্লেখ করা হয়। ওই সময় তাদের গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। বর্তমানে তারা জামিনে রয়েছেন।
ওই বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে স্বাভাবিক অক্ষত ও অক্ষত অবস্থায় রহিমা বেগমকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ মুহূর্তে রহিমা তার মেয়ে আদুরী আক্তারের জিম্মায় খুলনায় একটি ভাড়া বাসায় থাকছেন।










