জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের বাকি মাত্র ১১ দিন। নির্বাচন সম্পর্কে ধারণা থাকলেও গণভোটের বিষয়ে তেমন কিছু জানেন না গাইবান্ধার চরাঞ্চলের ভোটাররা। দৃশ্যমান কোনো প্রচার প্রচারণাও চোখে পড়ছে না। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র নদ ঘেঁষা চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে গণভোট বিষয়ে ধারণা সীমিত। অনেকেই জানেন না গণভোট কী বিষয়ে হবে কিংবা এতে তাদের ভূমিকা কী।

ফুলছড়ি ‎উপজেলার প্রধান সড়ক, হাটবাজার ও জনসমাগমস্থল ঘুরে কিছু কিছু স্থানে গণভোট সংক্রান্ত পোস্টার, ব্যানার বা সচেতনতা কার্যক্রম চোখে পড়লেও চরাঞ্চলের চিত্র ভিন্ন। রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান না হওয়ায় চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছেন চরের বাসিন্দারা।

এদিকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণার অংশ হিসেবে গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘এম্বাসেডর’ হিসেবে জাহিদ হাসান জীবনকে মনোনীত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক তিনি গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জাহিদ হাসান জীবন বলেন, ‘গণভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। মানুষ যেন বিষয়টি সঠিকভাবে বুঝতে পারে এবং সচেতনভাবে অংশগ্রহণ করে, সে লক্ষ্যেই আমি মাঠে কাজ করতে চাই। বিশেষ করে চরাঞ্চলের মানুষের কাছে গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরাই আমার প্রধান অগ্রাধিকার।’

তিনি বলেন, ‘জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই গণভোটকে অর্থবহ করে তুলতে পারে।’ তিনি সব রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনকে এ বিষয়ে প্রচারণারও আহ্বান জানান।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, সময় যত গড়াচ্ছে, কার্যকর উদ্যোগের অভাব ততই স্পষ্ট হচ্ছে। এখনই জোরালো পদক্ষেপ না নিলে চরাঞ্চলের বড় একটি জনগোষ্ঠী গণভোট প্রক্রিয়া থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন থেকে যেতে পারে। সুশাসন ও গণতান্ত্রিক চর্চার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গণভোটের গুরুত্ব থাকলেও ফুলছড়িতে এখনো তার প্রভাব দৃশ্যমান নয়। বিশেষ করে চরাঞ্চলের মানুষকে সম্পৃক্ত করতে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আরো সক্রিয় ও সমন্বিত উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।