বাংলাদেশে নার্সিং শিক্ষা ও ক্লিনিক্যাল সেবার মানোন্নয়নে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) বাস্তবায়িত ‘ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব নার্সিং সার্ভিসেস (সিবিএনএস-২)’ প্রকল্পের সমাপ্তি হয়েছে। চার বছরব্যাপী এ প্রকল্পে মোট ৫৫০ জন নার্স প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রকল্পটির কার্যক্রম, অর্জন ও বাস্তবায়ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে নার্সিং খাতের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রণীত ‘সিবিএনএস মডেল’ উপস্থাপন করা হয়।
সেমিনারে জানানো হয়, ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের আওতায় ৮টি বিভাগীয় নার্সিং কলেজ ও সংশ্লিষ্ট হাসপাতালকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর (ডিজিএনএম), বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিল (বিএনএমসি) এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে নার্সিং শিক্ষা ও ক্লিনিক্যাল চর্চার কাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হয়।
প্রকল্পের আওতায় ৬৪ জন মাস্টার ট্রেইনার ও ৪৮৬ জন ক্লিনিক্যাল নার্স শিক্ষক তৈরি করা হয়েছে। এতে নার্সিং শিক্ষা, প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পেশাগত উন্নয়নেও ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. সৈয়দা নওশিন বলেন, জাইকা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের একটি নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে কাজ করে আসছে। সিবিএনএস-২ প্রকল্পটি এমটি ও সিএনটি সমন্বিত ক্যাসকেড মডেলের মাধ্যমে নার্সিং পেশাজীবীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও পেশাগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
জাইকার সিনিয়র প্রতিনিধি মরিকাওয়া ইয়্যুকো বলেন, সিবিএনএস-২ প্রকল্পের অর্জন ও অভিজ্ঞতাগুলো উপস্থিত সবার কাছে বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করাই সেমিনারের প্রধান উদ্দেশ্য। যাতে করে, এ প্রকল্প থেকে যে কার্যকর মডেল ও দক্ষ জনবল তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে অন্যান্য এলাকাতেও উদ্যোগ পরিচালনা করা সম্ভব হয়।
এ সেমিনারে প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তৈরি ‘সিবিএনএস মডেল’ এবং মডেলের চারটি প্রধান বৈশিষ্ট্য উপস্থাপন করা হয়। যা ক্যাসকেড প্রশিক্ষণ, কার্যকর শিক্ষণ পদ্ধতি, কলেজ-হাসপাতাল সমন্বয় এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক শেখার মাধ্যমে টেকসইভাবে নার্সিং সেবার মানোন্নয়ন সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সেসময় নার্সিং কলেজ, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পেশাজীবী সংগঠন, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তারা নার্সিং মানবসম্পদ উন্নয়নে ধারাবাহিক সহযোগিতা, নেটওয়ার্কিং ও জ্ঞান বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।










