দীর্ঘ তিন মাস বন্ধ থাকার পর খুলে দেয়া হয়েছে সুন্দরবন। এর ফলে পর্যটক ও বনজীবীরা অনুমতি নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারছেন। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে সুন্দরবন সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। আজ বৃহস্পতিবার বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই শত শত জেলে ও পর্যটক নিয়ে কয়েকটি জাহাজও রওনা হয় সুন্দরবনের উদ্দেশে।
খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো জানান, সুন্দরবনের জল-স্থলভাগ শুধু জীববৈচিত্র্যেই নয়, মৎস্য সম্পদের আধার। জীববৈচিত্র্য রক্ষা, বন্যপ্রাণী ও মাছের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় জুন থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত সুন্দরবনে পর্যটনসহ বনজীবীদের প্রবেশ বন্ধ রাখে বন বিভাগ। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কয়েক বছর ধরে এ কার্যক্রম চলছে। তিন মাস বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার থেকে সুন্দরবনে প্রবেশ করছেন পর্যটক ও বনজীবীরা।
বন সংরক্ষক আরো বলেন, সুন্দরবনেরও কিছুটা বিশ্রাম দরকার। সারা বছর পর্যটক, জেলে ও বনজীবীদের পদচারণায় বিরক্ত থাকে বন্যপ্রাণীরা। ওই তিন মাস বন্ধ থাকায় বন আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। গত কয়েক বছর এ কার্যক্রম চালু থাকায় বনে বাঘ, হরিণসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর সংখ্যা বেড়েছে বলে তার দাবি।
সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন বলেন, সুন্দরবনের পরিবেশ সুন্দর ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে বড় ভূমিকা পালন করে থাকেন গাইডরা। এক্ষেত্রে পরিবেশ সচেতন ভ্রমণে পর্যটকদের সহায়তা করার জন্য বন বিভাগের পক্ষ থেকে ট্যুর অপারেটরদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বন বিভাগের পক্ষ থেকে সুন্দরবন ভ্রমণ নীতিমালা-২০১৪ সংশোধন করে আরো যুগোপযোগী করার পরিকল্পনাও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বন বিভাগের।
এদিকে বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়ার জন্য শত শত জেলে পাস নিতে ফরেস্ট স্টেশনগুলোতে ভিড় করেন। পর্যটক নিয়ে কয়েকটি জাহাজও রওনা হয় সুন্দরবনের উদ্দেশে। সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের কালাবগী স্টেশন কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম জুয়েল বলেন, বুধবার রাতেই অনেক জেলে স্টেশন ঘাটে চলে আসেন। বৃহস্পতিবার সকালে সবাইকে নিয়ে বৈঠক করে বিএলসি ও নৌকা যাচাই-বাছাই করে পাস দেয়া হয়।
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের সাধারণ সম্পাদক এম নাজমুল আজম ডেভিড বলেন, বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন হওয়ায় সুন্দরবন বাংলাদেশসহ বিশ্বের পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য প্রতিবছর দুই লক্ষাধিক দেশি-বিদেশি পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণে আসেন। ডেভিড বলেন, এখন সারা বছরই মানুষ সুন্দরবন ভ্রমণ করতে চান। তবে মূল মৌসুম শুরু হয় অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে, চলে মার্চের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত।এতদিন সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। এখন নিষেধাজ্ঞা উঠেছে, সড়কপথে পদ্মা সেতু দিয়ে সুন্দরবনে পর্যটক বাড়বে।
প্রসঙ্গত, ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনের সব নদ-নদী ও খালে মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল বন বিভাগ।










