লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বুড়িরবাড়ী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। আজ রোববার ভোরে সীমান্তের ধরলা নদীর বাঁধের মাথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম বিপুল হোসেন (২০)। তিনি পাটগ্রাম উপজেলার পাটগ্রাম ইউনিয়নের রহমানপুর (গাটিয়ারভিটা) এলাকার রশিদুল ইসলামের ছেলে। এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত এবং আরো দুজন আহত হন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিপুল হোসেনসহ ১০-১২ জনের একটি গরু পারাপারকারী রাখালের দল সীমান্তপথে ভারতীয় গরু ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় গরু আনতে যায়। সে সময় ভারতীয় কোচবিহার-১৮০ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চ্যাংরাবান্ধা কোম্পানি সদরের একটি টহল দলের ছোঁড়া গুলিতে বিপুল নিহত হন।
তিস্তা-২(৬১-বিজিবি) ব্যাটালিয়নের বুড়িমারী কোম্পানি কমান্ডার বাবুল হোসেন বলেন, ‘শুনেছি মাস্টারেরবাড়ী সীমান্তের ৮৪৩ নম্বর মেইন পিলার এলাকায় ১৮০ বিএসএফের চ্যাংরাবান্ধা ক্যাম্পের টহল দলের বিএসএফের গুলিতে বিপুল হোসেন নামে এক বাংলাদেশী যুবক নিহত হয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য চ্যাংরাবান্ধা বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডারকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানিয়ে জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে। পতাকা বৈঠকের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
পাটগ্রাম থানার ওসি ওমর ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ উদ্ধার করে লালমনিরহাট ১০০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আমরা গুলিতে নিহত হওয়ার বিষয়টি পেয়েছি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের পর নিশ্চিত করে বলা যাবে বিপুল বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়েছেন কিনা।’
তিস্তা-২(৬১-বিজিবি) বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর হাসান শাহরিয়ার মাহমুদ বলেন, ‘বিপুল হোসেনের বাড়িতে তার মরদেহ পেয়েছি। আমরা স্থানীয় থানা পুলিশকে বিপুলের ময়নাতদন্ত করে প্রতিবেদন চেয়েছি তিনি বুলেটে নিহত কিনা নিশ্চিত হতে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা কোনো বুলেট ছোড়েনি বা এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছে। তবে আমরা সঠিক ঘটনা জানার জন্য অনুসন্ধান করছি।’















