রাজনৈতিক দলগুলোকে নারীদের নিরাপত্তায় দায়িত্ব নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। তিনি বলেছেন, ‘রাজনীতিতে যেসব নারী সক্রিয়, নিজ অঙ্গনে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের একটি আচরণবিধি থাকা উচিত।’
রাজধানীর বিআইএসএস মিলনায়তনে গতকাল আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। ‘গণতন্ত্রের সংগ্রামে নারী: অবদান ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ গোলটেবিল আয়োজন করে উইমেন ইন ডেমোক্রেসি (উইন্ড)।
তিনি বলেন, ‘তালগাছের ছায়ার মতো একজন মেন্টর না থাকলে কীভাবে ছোট গাছটি বড় হবে। ছাত্র নেতৃত্ব এবং স্থানীয় সরকার থেকে নারী নেতৃত্ব তৈরি হওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এ পাইপলাইনটি যদি সৃষ্টি করা না হয় এবং ধরে রাখা না যায় তাহলে ভালো নেত্রীদের সুযোগ দেয়া যাবে না। সুতরাং পাইপলাইন তৈরি করতে হবে এবং সেটি ধরে রাখতে হবে। এটি প্রথমেই করতে হবে।’
টিভি উপস্থাপক কাজী জেসিনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, আইনজীবী সারা হোসেন, আইনজীবী সারওয়াত সিরাজ শুক্লা, শ্রমিক নেতা কল্পনা আক্তার, মুক্তিযোদ্ধা লুৎফা হাসান রোজি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা, ডাকসুর কার্যকরী সদস্য হেমা চাকমা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা, ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী তাসলিমা আখতার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান, অধ্যাপক শামীমা সুলতানা, সাংবাদিক জায়মা ইসলাম এবং ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্বিসহ অন্যরা।
জাইমা রহমান বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোকে নারীদের অর্থায়ন করতে হবে। ইকুইটির কথা বিবেচনা করে আরো সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। এতে করে নারীদের কম অংশগ্রহণের বিষয়টি কমে আসবে। এছাড়া নারী নিরাপত্তায় যেমন সাইবার বুলিং এবং শারীরিক নিরাপত্তার বিষয়টিতে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের আচরণবিধি (কোড অব কনডাক্ট) থাকতে হবে এবং তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে হবে।’
সারা হোসেন বলেন, ‘স্বাধীনভাবে কথা বলা এবং একত্রিত হওয়ার জন্য একটি সাংস্কৃতিক প্রক্রিয়ারও প্রয়োজন হয়। এ জাতিতে সাংস্কৃতিক লড়াই বরাবরই বড় ভূমিকা রেখেছে। নারীদের ওপর সুনির্দিষ্ট আক্রমণ আসাটা সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের অংশ।’
ফারাহ কবির বলেন, ‘নারীদের নিয়ে একটি প্যারাডক্সিক্যাল অবস্থায় আছে। সেটি থেকে বের হতে হবে। কিছু লোক এটিকে মদদ দিচ্ছে। ধর্মকে ভুল ব্যাখ্যার বিষয়টি ভারতসহ পৃথিবীর সব দেশেই আছে। আমরা এটির মধ্যে পড়তে চাই না। ভাষা অর্থাৎ পরিচয়নের জন্য স্বাধীনতা পাওয়ার মধ্য দিয়ে আমরা মনে করেছিলাম একটি ইনক্লুসিভ সোসাইটি হবে। নারীদের রাজনীতিতে আসতে হবে। রাজনীতিতে নারীদের সুযোগ দেয়া হয় না। ইশতাহারে নারীদের নিয়ে বলা হচ্ছে, কিন্তু ফ্যামিলি কার্ড দিলেও সেই টাকা নিজেরা খরচ করতে পারে না। এটি দূর করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলো কী ধরনের কৌশল নেবে।’










