‘মেশিনে ভোট দেয়া তো খুবই সহজ। খুব ভালো লাগছে মেশিনে ভোট দিয়া।’ আজ সোমবার (১২ জুন) সকালে খুলনা শহরের শেখপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ১ নং বুথে প্রথম ভোট দিয়ে এমন প্রতিক্রিয়া ছিল গৃহীনি রাবেয়া বেগমের। তিনি বলেন, ‘সকালে ভিড় কম থাকে, এজন্য আগেই ভোট দিতে এসেছেন।’ 

এবারের খুলনা সিটিকর্পোরেশন নির্বাচনের সবগুলো কেন্দ্রে ভোট হচ্ছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম-এ। সিল মারা, কাগজ ভাজ করা এবং বক্সে ভরার মত ব্যবস্থায় ভোট গ্রহণ বেশ জটিল। থাকে ব্যালট বক্স ছিনতাই করার মতও ঝুঁকি কিংবা ভোট শেষে হাতে ব্যালট গণণার দীর্ঘ ভোগান্তি। ফলে আধুনিক বিশ্বে যন্ত্রে ভোট দেয়া এখন জনপ্রিয় ভোটিং ব্যবস্থারই অংশ।

খুলনার রাবেয়া খাতুনের মত ভিড় বা লম্বা লাইন এড়াতে অনেকেই ভোট দিতে আসেন সকালের দিকে। তবে খুলনার অনেক ভোটারেরই ‘ধীর গতিতে ভোট’ হওয়ার অভিযোগ করেছেন। তারা বলছেন, প্রতিটি ভোট দিতে তিন থেকে চার মিনিট সময় নিচ্ছেন সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসাররা। 

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, খুলনায় এবার ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৫২৯ জন। যার মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৬৮ হাজার ৮৩৩ জন এবং নারী ২ লাখ ৬৬ হাজার ৬৯৬ জন। সিটির ৩১টি ওয়ার্ডে ২৮৯টি কেন্দ্রে মোট ভোটকক্ষ রয়েছে ১ হাজার ৭৩২টি। সব কেন্দ্রেই থাকছে ইভিএম। ভোট পর্যবেক্ষণ করতে স্থাপন করা হয়েছে ২ হাজার ৩১০টি ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা। 

এবার মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট পাঁচ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের তালুকদার আব্দুল খালেক, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের শফিকুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের আব্দুল আউয়াল, জাকের পার্টির গোলাপফুল প্রতীকের এসএম সাব্বির হোসেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী দেয়ালঘড়ি প্রতীকের এসএম শফিকুর রহমান মুশফিক।  এ ছাড়া ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১৩৬ জন ও ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৩৯ জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যার মধ্যে নগরীর ১৩ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে দুই জন কাউন্সিলর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।