ভোটে জালিয়াতি ও কারচুপির অভিযোগে ৩২ আসনের ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। গতকাল নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে দেখা করে তারা এ দাবি জানায়। ইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও জোটের মুখপাত্র হামিদুর রহমান আযাদ। একই সঙ্গে নির্বাচনের আগে ও পরে সহিংসতার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে আজ প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জোটটি।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘সবারই আকাঙ্ক্ষা ছিল—অতীতের প্রহসনমূলক নির্বাচন থেকে বেরিয়ে এসে একটি সুন্দর, অংশগ্রহণমূলক, উৎসবমুখর ও ঐতিহাসিক নির্বাচন আমরা উপহার পাব। বড় ধরনের খুনাখুনি বা ভয়াবহ সহিংসতা দৃশ্যমান ছিল না—এটি আমরা স্বীকার করি। তবে ভোট গ্রহণকালীন কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে আমরা দেখেছি, সার্বিক পরিবেশ ছিল অসুস্থ ও প্রশ্নবিদ্ধ। শুরুটা ভালো হলেও সমাপ্তিটা হয়নি। ভোটগ্রহণের সময় ব্যাপকভাবে জাল ভোট, কালো টাকার ছড়াছড়ি, হুমকি-ধমকি, সন্ত্রাস, মারামারি ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। যদিও বড় কোনো একক ঘটনা হয়নি, তবু এসব উপাদান একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যথেষ্ট বাধা সৃষ্টি করেছে এবং পুরো নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।’
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের পক্ষ থেকে অসংখ্য অভিযোগ ও কমপ্লেইন দাখিল করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এসব অভিযোগের কার্যকর কোনো প্রতিকার আমরা দেখতে পাইনি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ১১ দলীয় জোট একসঙ্গে এসব বিষয় বারবার স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি। কিন্তু সন্তোষজনক কোনো পদক্ষেপ আমরা পাইনি। নির্বাচন শেষ হয় বিকাল সাড়ে ৪টায়। নিয়ম অনুযায়ী ফল গণনা শুরু হয় সাড়ে ৭টায়। কিন্তু ২-৩ ঘণ্টা পার হওয়ার পরও অনেক কেন্দ্রে ভোট কাস্টিংয়ের তথ্য স্বাভাবিক ছিল না। আবার শেষ দিকে কিছু কেন্দ্রে হঠাৎ অস্বাভাবিক হারে ভোট কাস্টিং দেখানো হয়েছে। এতে অতিরিক্ত ব্যালট ব্যবহারের প্রশ্ন থেকেই যায়।’










