খুলনার কয়রা উপজেলায় সড়ক সংস্কারে অনিয়ম ও ত্রুটিপূর্ণ কাজের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। নির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা এবং প্রাক্কলন অনুসরণ না করায় কয়রা-গোবরা বাজার পর্যন্ত এ সড়ক সংস্কারকাজের শুরুতেই হেলে পড়েছে গাইডওয়াল। এছাড়া সংস্কারকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারে সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, কয়েকটি গ্রামের লোকজন ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা এ সড়ক দিয়েই যাতায়াত করেন। যেকোনো দুর্যোগে সড়কটি উপজেলা সদরের প্রতিরক্ষাবাঁধ হিসেবে বিবেচিত। সড়কটি সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ করে ক্ষোভ প্রকাশ
করেছেন তিনি।
কয়রা গ্রামের বাসিন্দা আজিজুল বৈদ্য অভিযোগ করেন, মূল ঠিকাদারের কাছ থেকে আলিফ নামের এক ব্যক্তি কাজটি সাব কন্ট্রাক্ট নিয়েছেন। এ কাজে তার কোনো দক্ষতা নেই। এ কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগঝুঁকি হ্রাস ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের (ডিআরএমইপি) আওতায় ২ কোটি ২৩ লাখ ১৪ হাজার টাকা চুক্তিমূল্যে কয়রা উপজেলার কয়রা-গোবরা বাজার সড়ক সংস্কার ও মেরামত কাজ চলমান রয়েছে।
জাইকার অর্থায়নে ১ হাজার ৬৯৩ মিটার দৈর্ঘ্যের সড়ক সংস্কার ও মেরামত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে মেসার্স নিয়াজ ট্রেডার্স অ্যান্ড মেসার্স রাজু ইন্টারন্যাশনাল (জেভি) নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তর (এলজিইডি) প্রকল্পের তদারকির দায়িত্বে। কার্যাদেশ অনুযায়ী, কাজের মেয়াদ এক বছর আগে শেষ হলেও চলতি বছরের মার্চ মাসে সংস্কারকাজ শুরু করে ঠিকাদার।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের দুই পাশে শ্রমিকরা গর্ত খুঁড়ে তার নিচে বালি ভরাট করছেন। আবার কিছু শ্রমিক গাইডওয়ালের পাশে মাটি ভরাট করছেন। সেখানে মাটি ভরাটের পর গাইডওয়াল হেলে পড়েছে। হেলে পড়া সেই ওয়াল আবার শ্রমিকরা ঠেলে সোজা করার চেষ্টা করছেন।
এছাড়া নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারে বাধা দেয়ায় স্থানীয় মানুষের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়াতে দেখা গেছে শ্রমিকদের। এ সময় কাজের সাইটে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অথবা এলজিইডির কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে শ্রমিকদের কাছ থেকে খবর নিয়ে আলিফ নামে এক ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা হয়। তিনি নিজেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোক হিসেবে পরিচয় দেন।
কাজের অনিয়ম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এক্সক্যাভেটর দিয়ে মাটি ভরাটের সময় কিছু কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেটি ঠিক করার চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে মূল ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
প্রকল্পের ঠিকাদার আবুল ফজল রাজু মুঠোফোনে বলেন, আমার লাইসেন্স ব্যবহার করে কাজটি আলিফ নামে আমার পরিচিত একজন করছেন। আমি কখনো ওই কাজের সাইটে যাইনি। আলিফ নতুন লোক এজন্য শুরুতেই হয়তো কিছু ত্রুটি হতে পারে।
এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন বলেন, সংস্কারকাজের শুরুতেই কিছু ত্রুটি ধরা পড়ে। সেগুলো সম্পর্কে ঠিকাদারকে সতর্ক করা হয়েছে।
কয়রা উপজেলা প্রকৌশলী দারুল হুদা বলেন, কয়রা-গোবরা বাজার সড়ক সংস্কারে কোনো ত্রুটি ধরা পড়লে অথবা কোনো অনিয়ম হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।










