নাটোরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে পৌরসভার কাউন্সিলরসহ সাতজন আহত হয়েছেন। গতকাল সকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল ও কাউন্সিলর রানা হোসেনের সমর্থকের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয় বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
অন্যদিকে ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটি নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতির চেম্বার ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হরিশপুর বাস টার্মিনালে বিএনপি ও সমমনা দলের ডাকা অবরোধের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন নাটোর পৌরসভার কাউন্সিলর রানা এবং তার সমর্থকরা। পরে এমপি শিমুলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত রাশিদুল ইসলাম কোয়েল তার সমর্থকদের নিয়ে সেখানে যান। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে কাউন্সিলর রানাসহ তার সাত সমর্থক আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। আশিক ও জাহিদ নামে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছিম আহমেদ জানান, টার্মিনাল এলাকায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষের কথা শুনে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ করেনি।
অভিযোগের বিষয়ে রাশিদুল ইসলাম কোয়েল বলেন, ‘অবরোধ ঠেকাতে এমপি শফিকুল ইসলাম শিমুলের নির্দেশে মাঠে আছি। গতকাল বিএনপির এক কর্মীকে আটক করেছিলাম। পরে কাউন্সিলর রানা ফোন করে বলেন, বিএনপির ওই কর্মী তার দুলাভাই, তাকে ছেড়ে দিতে হবে। পরে আমরা হরিশপুরে গেলে হাতাহাতিতে কয়েকজন আহত হয়। কে কাকে মেরেছে বলতে পারব না। আমার নেতাকর্মীদের কারো কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না, তবে লাঠিসোঁটা ছিল।’
এদিকে গত মঙ্গলবার রাতে নাটোর সদর, পৌর ও এনএস সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ কমিটি নিয়ে বিরোধে গতকাল দুপুরে এনএস কলেজ এলাকায় ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের সঙ্গে নবগঠিত কমিটির ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।










