স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও এসব ক্ষেত্রে বিদেশী প্রতিষ্ঠানের ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরশীলতা পরিলক্ষিত হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার অন্যতম বাধা। কৌশলগত খাতে দেশীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা নীতি বিদেশী বিনিয়োগপ্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে না, বরং দেশীয় সক্ষমতা গড়ে তোলে।

রাজধানীর বনানীতে একটি হোটেলে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক রিসার্চ (সিএসআর) আয়োজিত ‘কৌশলগত সম্পদে দেশীয় বিনিয়োগের অগ্রাধিকার’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির সহ-আয়োজক ছিল অনলাইন সংবাদমাধ্যম ঢাকা স্ট্রিম। আলোচনায় অংশ নেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি; সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল; নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর মান্না; সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার; সিএসআরের নির্বাহী পরিচালক সাকিব আনোয়ার; ক্যাব সভাপতি এএইচএম শফিকুজ্জামান; বিসিকের সাবেক পরিচালক আবু তাহের; সিএসআরের কো-অর্ডিনেটর সবুজ এইচ চৌধুরী এবং ঢাকা স্ট্রিমের পরামর্শক সম্পাদক হাসান মামুন।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত ধারণাপত্রে বলা হয়, দেশের সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরসহ কৌশলগত অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় ক্রমবর্ধমান বিদেশী আধিপত্য এবং দেশীয় উদ্যোক্তাদের প্রান্তিকীকরণ—এ দুটি সমান্তরাল প্রবণতা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ১৯ কোটি মানুষের দেশ, যার অর্থনীতি বিশ্বের ৩৪তম বৃহত্তম এবং দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম; তার কৌশলগত সম্পদ পরিচালনায় দেশীয় সক্ষমতা ও মালিকানা সুরক্ষার প্রশ্ন এখন অপেক্ষা করতে পারে না।

আলোচনায় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘সরকারের মূলনীতি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। এটি কেবল একটি স্লোগান নয়; বরং একটি গাইড প্রিন্সিপাল। আমাদের যেকোনো নীতি গ্রহণের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থকে সবার ওপরে স্থান দিতে হবে।’

দেশে দুর্নীতির ধরন বদলে গেছে উল্লেখ করে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আগে অনেকটা দৃশ্যমান দুর্নীতি হতো; এখন মিলিয়ন ডলারের অদৃশ্য দুর্নীতি হয়। চুরি-লুটপাট আমাদের অস্থিমজ্জায় মিশে গেছে। এ বিষয়ই এখন আমাদের প্রধান শত্রুতে পরিণত হয়েছে। এজন্য সর্বস্তরে পেশাদারত্ব, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি বন্ধে বেশি নজর দিতে হবে।’

আলোচনায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমাদের মধ্যে একটি ‘ন্যাশনাল মাইন্ডসেট’ বা জাতীয় মানসিকতা ঢুকে গেছে যে আমরা বন্দর বা বিমানবন্দর সামলাতে পারি না, আমরা ভালো চুক্তি করতে জানি না। কিন্তু এ হীনম্মন্যতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

ইরানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘ইরান যদি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও চাপের মুখে থেকেও বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিতে স্বাবলম্বী হতে পারে, তবে আমরা কেন পারব না? আমাদের নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে হবে।’