ভোলায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আবদুর রহিম (৩২) নামে এক বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ৩০ জন। আজ রোববার সকালের দিকে শহরের কালিনাথ রায়ের বাজার এলাকার জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুর রহিম ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দেশব্যাপী জ্বালানি, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে ভোলা জেলা বিএনপি। এসময় কার্যালয় থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রাস্তায় বের হলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। সেখানে একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীরা বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এরপর পুলিশ তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠি চালালে বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশের উপর চড়াও হয়ে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টায় পুলিশ একপর্যায়ে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এসময় পুলিশ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এসময় আব্দুর রহিমের মৃত্যু হয়। গুলিবিদ্ধ হন ১৫ নেতাকর্মী। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে ভোলা জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর বলেন, আজ আমাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশ অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। এক পর্যায়ে আমাদের নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হলে পুলিশ তাদের ওপর টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট ছোঁড়ে। এতে করে আমাদের এক কর্মী নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছে ১৫ জন। আহত হয়েছে আরো অনেকে।

অন্যদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলে থাকা সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন সরদার বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের দলীয় কার্যালয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালীন কিছু উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মীরা রাস্তায় জড়ো হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। এসময় পুলিশের পক্ষ থেকে তাদেরকে শান্ত করার চেষ্টা করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের ওপর লাঠি দিয়ে আঘাতসহ ইট-পাটকেল ছুড়তে শুরু করে। পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের পক্ষ থেকে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এসময় বিএনপি নেতাকর্মীদের ছোড়া ইট-পাটকেল ও লাঠির আঘাতে ৭ পুলিশ সদস্য আহত হয়। 

এদিকে ঘটনার পর থেকেই পুরো শহরজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। শহরের প্রতিটি পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।