জনগণের সচেতনতা ও ক্ষেত্রবিশেষে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধই কেবল অপতৎপরতার উপযুক্ত জবাব হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের বিশ্বাস, যুবসমাজ ঘুমিয়ে পড়েনি। অসমাপ্ত দায়িত্ব পালনের জন্য তারা এ নির্বাচনকে যেকোনো মূল্যে সফল করবে। কেউ অন্য কিছু করতে চাইলে আমরা অনুরোধ করব, তারা যেন নিজেদের অধিকার রক্ষায় মজবুতভাবে দাঁড়িয়ে যায় ও স্পষ্ট জবাব দেয়।’
জাতীয় নির্বাচন ও দেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল রাতে রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের শীর্ষ দায়িত্বশীলদের বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গণভোটে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। জুলাই আকাঙ্ক্ষার আলোকে যে সংস্কার প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছে, এটিকে বৈধতা দিতে যে গণ-রায়ের দরকার, এর জন্য গণভোট হচ্ছে। আমাদের অবস্থান এর পক্ষে।’
তিনি বলেন, ‘৫৪ বছরে এ জাতি বহুদূর এগিয়ে যতে পারত, কিন্তু দুর্নীতি ও দুঃশাসনের কারণে তা হয়নি। আমাদের অঙ্গীকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান। আমরা সমাজে সুশাসন দেখতে চাই। সেই সঙ্গে সমাজের সর্বত্র ন্যায়বিচার কায়েম করতে চাই। এগুলো নিশ্চিত করা গেলে সমাজ যে পশ্চাৎপদ হয়ে পড়ে আছে, এ অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব।’
নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে এ দেশ আপনাদেরও। আপনারা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাহলে জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন পাবেন এবং জনগণ এ কাজের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে আপনাদের মূল্যায়ন করবে। অতীতের মতো প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হয়েও নির্দিষ্ট কারো পক্ষ নেবেন, এটা আমরা দেখতে চাই না।’
বৈঠকে ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আবদুল জলিল, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।










