শেখ হাসিনা ভারতে দীর্ঘকাল অবস্থান করলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো
প্রভাব পড়বে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, এটি একটি
হাইপোথেটিক্যাল প্রশ্ন। উনি যদি কোনো দেশে গিয়ে থাকেন, তবে সম্পর্ক নষ্ট হবে কেন? এর
কোনো কারণ নেই। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অনেক বড় বিষয়, এটি স্বার্থের সম্পর্ক। বন্ধুত্বও
কিন্তু স্বার্থের জন্য এবং স্বার্থ বিঘ্নিত হলে বন্ধুত্ব থাকে না। দুপক্ষের স্বার্থ
আছে। ভারতের স্বার্থ আছে এবং বাংলাদেশেরও স্বার্থ আছে। কাজেই আমরা স্বার্থ বজায় রাখব
এবং সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করব।
সোমবার (১১ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বিদেশী কূটনীতিকদের
ব্রিফ করেন পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা। উপদেষ্টার কূটনীতিক ব্রিফিংয়ে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র,
যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারসহ ৬০ জনের বেশি
কূটনীতিক উপস্থিত ছিলেন। কূটনীতিকদের ব্রিফ করার পর গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন উপদেষ্টা।
সভায় আলোচনা প্রসঙ্গে আলোকপাতকালে তৌহিদ হোসেন বলেন, বিনিয়োগের বিষয়ে
প্রশ্ন এসেছিল, আমরা বলেছি যে তারা যেন হতাশ না হয়। কারণ এটা একটি সাময়িক পরিস্থিতি।
এত বড় একটা পরিবর্তনের পর এটা কিছুটা হতেই পারে। দ্রুতই অর্থ উপদেষ্টা পরিস্থিতি সঠিক
পথে নিয়ে আসবেন। বিনিয়োগের সুরক্ষা, প্রফিট সবই তাদের ভালো হবে। তারা যেন সাময়িক অসুবিধাটাকে
গুরুত্ব না দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে যে বাংলাদেশ একটা ভালো গন্তব্য সেটাই আমরা তাদেরকে বলার
চেষ্টা করেছি।
গতকাল রোববার (১১ আগস্ট) গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় উপদেষ্টা বলেছিলেন যে সবকিছু
সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই, ছাত্রদের নিয়ন্ত্রণে নেই, দেশের নিয়ন্ত্রণে নেই। এ কথা দিয়ে
কী বোঝাতে চেয়েছিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, সরকারের নিয়ন্ত্রণে সবকিছু
নেই বলেছিলাম এ কারণে যে আমরা তো যেরকম নিরাপত্তা দিতে চাচ্ছি, তা পারছিলাম না। বাইরের
কারো নিয়ন্ত্রণে থাকার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। অন্তত যে পরিষদ এখন দায়িত্বে আছে, আমি
ক্ষমতা শব্দটা একেবারেই ব্যবহার করতে চাই না, এটা একটা দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ দায়িত্ব
পালন করে আমরা সরে যাব। যে কাউন্সিল আছে, আমি অ্যাশিউর করতে পারি, এর মধ্যে কেউ অন্য
কারো জন্য বিড করছে না। সবাই বাংলাদেশের জন্য বিড করছে। কেউ অন্য কোনো দেশের জন্য বিড
করছে না। আমার নলেজে যতটুকু আছে সেটুকু আমি বলতে পারি। অন্তত আমার নিশ্চয়তা আমি দিতে
পারি। অন্যদের বিষয়ে নিশ্চয়তা না কিন্তু আমি যা দেখেছি তাতে মোটামুটি নিশ্চিন্ত যে কেউই
অন্য কোনো দেশের হয়ে বিড করছে না।










