খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে চুরি হওয়া নবজাতককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। চুরি হয়ে যাওয়া নবজাতকের মা রানিমা বেগম দাবি করছেন, নড়াইল থেকে উদ্ধার হওয়া নবজাতকটিই তার সন্তান।
ঘটনার ২৩ দিন পর বৃহস্পতিবার রাতে নড়াইলের কালিয়া থেকে ওই নবজাতককে উদ্ধার করা হয়। নিঃসন্তান এক দম্পতি অর্থের বিনিময়ে ওই নবজাতককে কিনেছিল। তবে নবজাতককে চুরি করে নিয়ে যাওয়া নারীকে এখনো গ্রেফতার করা যায়নি।
সোনাডাঙ্গা থানার এসআই তোফায়েল আহমেদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পারকৃষ্ণপুর গ্রামের একটি পরিবার ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে নবজাতক ছেলে কিনেছে। বৃহস্পতিবার সেখানে অভিযান চালিয়ে নবজাতকটি উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটিকে যারা কিনেছেন বলে দাবি করছেন, তাদেরও থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
তোফায়েল বলেন, উদ্ধার শিশুটি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) রানিমা বেগমের কাছে আছে। তবে রানিমা বেগমের কাছে নবজাতকটি হস্তান্তর করা হয়নি। শিশুটি রানিমা বেগমের সন্তান কিনা, সেটি নিশ্চিতের জন্য ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।’
গত ২৪ জানুয়ারি বিকালে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে নবজাতকটি চুরি করে নিয়ে যায় একটি চক্র। এ ঘটনার পর নবজাতকের নানা বেলায়েত হোসেন বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা করেন। ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এরই মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও র্যাব। তারা কারাগারে রয়েছেন। তবে যে নারী ওই শিশুকে চুরি করে নিয়ে গিয়েছিলেন তাকে গ্রেফতার করা যায়নি।
এরপর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে গাড়ি ভাড়া নিয়ে এক চালকের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই চালক গাড়ির চাবি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এর মধ্যে আরো কয়েকজন চালক তার ওপর চড়াও হন। গাড়িচালকদের সঙ্গে একজন নারীও ছিলেন। এ সময়ের নবজাতকটি তার আরেক বোন সোনিয়া বেগমের কোলে ছিল। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে চালকের সঙ্গে থাকা এক নারী সোনিয়া বেগমের কাছ থেকে কৌশলে নবজাতকটি নিয়ে পালিয়ে যান।










