খুলনার রূপসা খেয়াঘাট ইজারা দিতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে খুলনা জেলা পরিষদ। সোমবার রূপসাসহ ১৬টি ঘাট ইজারার বিজ্ঞপ্তি বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশ করে জেলা পরিষদ। তবে এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হন খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) কর্মকর্তারা। ওইদিন বিকালেই গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ ঘটনাকে ‘আপত্তিকর ও নিন্দনীয়’ বলে মন্তব্য করে ‘রূপসা খেয়াঘাট’-এর বিপরীতে কোনো প্রকার দরপত্র দাখিল বা অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘১৮৮৫ সালে খুলনা জেলা পরিষদ প্রতিষ্ঠিত হয়। রূপসাসহ সব ঘাটের মালিকানা জেলা পরিষদের ছিল। পরে সড়ক বিভাগ ঘাটটি পরিচালনা করতে গেলে জেলা পরিষদ মামলা করে। সম্প্রতি এ মামলার নিষ্পত্তি হয়। এতে ঘাটের মালিকানা জেলা পরিষদ ফিরে পেয়েছে। এজন্য এবার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।’

এ ব্যাপারে কেসিসির বৈষয়িক কর্মকর্তা নুরুজ্জামান তালুকদার জানান, এ ধরনের কোনো মামলার কথা তার জানা নেই। রূপসা ঘাটে ফেরি চলাচল বন্ধ হওয়ার পর ২০০৫ সালের ১২ জুন সড়ক ও জনপথ বিভাগ ঘাটটি কেসিসির কাছে হস্তান্তর করে। সেই থেকে কেসিসি ঘাটটি পরিচালনার পাশাপাশি উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছে। এর অর্ধেক রাজস্ব পাচ্ছে রূপসা উপজেলা পরিষদ। কিন্তু হঠাৎ করে গত সোমবার ১৬টি ঘাট ইজারার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে খুলনা জেলা পরিষদ। এর মধ্যে ১৫ নম্বরে রূপসা খেয়াঘাট ইজারার তথ্য উল্লেখ রয়েছে।

নুরুজ্জামান বলেন, ‘ওইদিন বিকালেই এ ব্যাপারে গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে কেসিসি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জেলা পরিষদের বিজ্ঞপ্তিতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রূপসা খেয়াঘাটের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা আপত্তিকর ও নিন্দনীয়। দরপত্রের ১৫নং ক্রমিকে উল্লিখিত “‍রূপসা খেয়াঘাট’’-এর বিপরীতে কোনো প্রকার দরপত্র দাখিল/অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার জন্য কেসিসি কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুলনার খেয়াঘাটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় হয় রূপসা খেয়াঘাটে। সর্বশেষ অর্থবছরে এ ঘাট থেকে কেসিসি রাজস্ব আয় করে ৬৫ লাখ টাকা। অবশ্য জেলা পরিষদের বিজ্ঞপ্তিতে ঘাটের ইজারামূল্য ধরা হয়েছে ৭৯ লাখ ২০ হাজার টাকা।