নওগাঁর বেশ কয়েকটি এলাকায় ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে। গতকাল বিকাল ৪টা থেকে শুরু হওয়া ঝড়ে পত্নীতলা, ধামইরহাট, মহাদেবপুর ও সদর উপজেলাসহ কয়েকটি এলাকায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে শতাধিক ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও ফসলের জমি। প্রায় আধা ঘণ্টার ঝড়ে কিছু স্থানে গাছ উপড়ে পড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ায় অনেক এলাকা বিদ্যুৎবিহীন ছিল। বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু খবরও পাওয়া গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিকালে আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। এর পরই শুরু হয় ঝড়। কিছুক্ষণ পর শুরু হয় বৃষ্টি। হঠাৎ এমন ঝড়-বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় ঘরবাড়ি-দোকানপাট ও গাছপালা। বিশেষ করে পত্নীতলা উপজেলার মাতাজি, ভাবিচা মোড়, কাঁটাবাড়ি, মহাদেবপুর উপজেলার বিলশিকারী, দেওয়ানপুর, ধামইরহাট ও সদর উপজেলাসহ কয়েকটি এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে।
কৃষক রানা হোসেন বলেন, ‘ধান, কলা, পেঁপেসহ প্রায় সব ধরনের ফসল মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। আমাদের জন্য এটা বড় ধাক্কা। আমার নিজেরই ৩০০ কলাগাছের মধ্যে ২৯৯টি ভেঙে গেছে। এতে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।’
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় বৈদ্যুতিক পিলার উপড়ে পড়েছে।
নওগাঁ জেলা প্রশাসক আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘ঝড়ের পরপরই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। যেসব এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে, সেখানে দ্রুত সংযোগ চালু করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’
এদিকে বিলে মাছ শিকারে গিয়ে বজ্রপাতে মফিজ উদ্দিন বসু (৬০) নামে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। বেলা দেড়টার দিকে সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ী বিলে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মফিজ উদ্দিন বসু হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের ভীমপুর গ্রামের মৃত ছহির উদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে।
নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে বজ্রপাতের ঘটনায় একজন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। নিহতের পরিবার মরদেহ বাড়ি নিয়ে গেছে।’










