ভূমি ও গৃহহীনদের জন্য গাইবান্ধায় করতোয়া নদীর তীরে ১১০টি ঘর নির্মাণ করে সরকার। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের চণ্ডীপুর গ্রামে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ঘরগুলো তৈরি করা হয়। বিনামূল্যে এসব ঘর দেয়া হয়েছিল ভূমি ও গৃহহীনদের। তবে গুচ্ছগ্রামের বেশির ভাগ ঘরে থাকেন না কেউ। অন্তত ৭০টি ঘরের খুঁটি ছাড়া কিছু নেই। সেখানে স্থাপন করা ৩১টি নলকূপও গায়েব হয়ে গেছে।

গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা বলছেন, প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে প্রশিক্ষণ ও স্বল্প সুদে ঋণ দেয়ার কথা ছিল। যার মূল লক্ষ্য ছিল উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে সহায়তা করা। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই করেনি উপজেলা প্রশাসন।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, কিছু ঘর খালি পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। গুচ্ছগ্রামের অধিকাংশ ঘরে প্রকৃত মালিকরা থাকেন না। দিনে তালাবদ্ধ থাকে। সন্ধ্যা হলে এখানে মাদকসেবীদের আনাগোনা দেখা যায়। তাদের কারণে এলাকায় ছিনতাই বাড়ছে। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের আসা-যাওয়া থাকায় প্রতিবাদ করার সাহস পান না তারা।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের চণ্ডীপুর গ্রামে ১১০টি ঘর নির্মাণ করে তৎকালীন সরকার। এতে ব্যয় হয় ৬ কোটি টাকা।

গোবিন্দগঞ্জ নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক এমএ মতিন মোল্লা বলেন, ‘ঘর দেয়ার আগে যাচাই-বাছাই করা হয়নি। প্রকৃত ভূমিহীনদের না দিয়ে প্রভাবশালীদের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আবার দলীয় নেতাকর্মীদের কাছের লোক বা আত্মীয়-স্বজনও পেয়েছেন।’

এ ব্যাপারে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তামশিদ ইরান খান বলেন, ‘শুনেছি গুচ্ছগ্রামের ঘরে অনেকেই থাকেন না। আবার অনেক ঘরে তালা ঝোলানো। সরজমিন তদন্তে গিয়ে যেসব ঘরে তালা ঝুলতে দেখা যাবে, সেসব ঘরের বরাদ্দ বাতিল করা হবে।’