রাষ্ট্রের চোখে কেউ ক্ষুদ্র বা বৃহৎ নয়।’ জাতিগত পরিচয় নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মানুষ ক্ষুদ্র হতে পারে না, তার সংখ্যা যত কমই হোক না কেন।’
গতকাল বিকালে বাংলা একাডেমিতে ঐতিহ্য প্রকাশনীর আয়োজনে কবি ও সাংবাদিক এহ্সান মাহমুদের দ্বিভাষিক কাব্যগ্রন্থ ‘আদিবাসী প্রেমিকার মুখ: দ্য পোর্ট্রেট অব অ্যান আদিবাসী বিলাভড’-এর এক বিশেষ প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম, লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ, ঐতিহ্য প্রকাশনীর প্রধান নির্বাহী আরিফুর রহমান নাঈম, অধিকারকর্মী মেইনথিন প্রমিলা, এনসিটিবির বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও শিক্ষক কুদরত-ই-হুদা ও কাব্যগ্রন্থের লেখক এহ্সান মাহমুদ।
পাহাড়ি ও সমতলের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে একীভূত করে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের পরিচয় তুলে ধরার ওপর তিনি জোর দেন। তিনি পাহাড়ের মানুষের সম-অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সরকারের নেয়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন।
গবেষক পাভেল পার্থ বইটির প্রতীকী অর্থের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘এটি রাষ্ট্রের ‘‘সিস্টেমেটিক মেমোরি’’ বা ইতিহাস মুছে ফেলার বিরুদ্ধে এক নান্দনিক প্রতিবাদ।’ তিনি পাহাড়ের ‘ফুলখাদি’ পোশাক এবং কল্পনা চাকমার হারিয়ে যাওয়ার বেদনাকে কবিতার মূল সুর হিসেবে চিহ্নিত করেন।
মানবাধিকার কর্মী মাইনথিন প্রমিলা বলেন, ‘এই বইয়ের ‘‘প্রেমিকা’’ কোনো ব্যক্তি নয়, বরং পাহাড়ের এক একটি দীর্ঘশ্বাসের প্রতিনিধি।’
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম বইটিকে একটি ‘অসাধারণ সংলাপ প্রয়াস’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘শিল্পই পারে বিচিত্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে বৈষম্য দূর করে একীভূত করতে।’ লেখক এহ্সান মাহমুদ তার বক্তব্যে জানান, পর্যটকের চোখ দিয়ে পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখা আর সেখানকার মানুষের অন্দরমহলের দুঃখ বোঝা এক নয়। তিনি ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর একটি বৈষম্যহীন ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্নের কথা বলেন। ঐতিহ্য প্রকাশনীর প্রধান নির্বাহী আরিফুর রহমান নাঈম জানান, ভবিষ্যতে পাহাড় নিয়ে গবেষণা করতে চাওয়া সবার কাজে আসার প্রয়াস থেকে ইংরেজি অনুবাদসহ এবার বইটির বিশেষ প্রকাশনা করা হয়েছে।










