অন্যায়ভাবে আমার স্বামী মনির হোসেন আঠিয়াকে
কুপিয়ে হত্যা করেছে ওরা। তিন দিন হয়ে গেলেও পুলিশ একটি বারের জন্য তদন্ত করতে আসেনি।
আমার স্বামী হত্যার সঠিক বিচার কি পাব না?— স্বামী হারানোর
পর গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এভাবেই অভিযোগ করেছেন, মনির হোসেনের স্ত্রী তাসলিমা বেগম।
শুক্রবার (৯ আগস্ট) সকালে নিহত মনির হোসেনের
বাড়িতে গেলে তার স্ত্রী তাসলিমা বেগম ও মেয়ে মাহমুদা খানম বর্ষাসহ স্বজনরা সাংবাদিকদের
কাছে নৃশংস এই হত্যার বিবরণ তুলে ধরেন।
নিহত মনির আঠিয়া সোনাপুর গ্রামের মৃত আমিন
উল্লাহ আঠিয়ার ছেলে। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের সোনাপুর গ্রামে
থাকতেন।
সোমবার (৫ আগস্ট) রাতে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে
কেন্দ্র করে মনির হোসেন আঠিয়াকে রামগঞ্জ উপজেলা ফায়ার সার্ভিস এলাকায় পরিকল্পিতভাবে
কুপিয়ে জখম করে তার প্রতিপক্ষের লোকজন। মুমূর্ষু অবস্থায় রামগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা হাসপাতালে নিয়ে গেলে তিনি
মারা যান। বর্তমানে তার মরদেহ লক্ষ্মীপুর জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
মনির হোসেন আঠিয়াকে যাদের বিরুদ্ধে হত্যা
করার অভিযোগ উঠেছে তারা হলেন— প্রতিবেশী হারুন আঠিয়ার ছেলে মো. কামাল,
নাছির, মো. জসিম ও প্রবাসী থেকে মো. আলী আঠিয়া নামে এক ব্যক্তি।
নিহত মনির আঠিয়ার মেয়ে বর্ষা সাংবাদিকদের
জানান, গত সোমবার রাতে উপজেলার ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন মসজিদ থেকে এশার নামাজ শেষ করে
বাড়িতে ফিরছিলেন তার বাবা। ওই সময় তাকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তখন মনির আঠিয়ার
চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত জসিম মুঠোফোনে
জানান, মনির আঠিয়ার হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তাদের জানা নেই। ঘটনার দিন তারা পলাতক ছিল।
তারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তখনকার পরিস্থিতি খুব খারাপ ছিল। এটা মিথ্যা
অভিযোগ।
সদর হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার অরূপ
পাল বলেন, পুলিশ সদস্যরা কর্মবিরতিতে থাকায় এখনো কোনো মামলা নেয়া ও মরদেহটির ময়নাতদন্ত
করা সম্ভব হয়নি। আমরা একাধিকবার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। বিষয়টি তিনি
জেলা সিভিল সার্জনকে জানিয়েছেন। তবে এখনো মরদেহটি ময়নাতদন্ত করার অনুমতি পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
(ওসি) মো. সোলাইমান বলেন, মোবাইল ফোনে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে মনির
আঠিয়া নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের কর্মবিরতি থাকায় ঘটনাস্থলে
পুলিশ পাঠানো সম্ভব হয়নি।










