প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১৯৬৬ সালে গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালী গ্রামে নির্মাণ করা হয় মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। ৬৬ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে দুজন চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পদে ১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োজিত ছিলেন। বাদিয়াখালীসহ সাঘাটা ও ফুলছড়ির কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। তবে প্রয়োজনীয় জনবল সংকটে বর্তমানে বন্ধ রয়েছে অভ্যন্তরীণ বিভাগ। ফলে রোগী ভর্তিও বন্ধ হয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রটিতে ১১টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র চারজন। জনবল সংকটে কেন্দ্রটি এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম। সেখানে রিকশা-ভ্যান নিয়ে যাওয়ার রাস্তা নেই। গর্ভবতী নারীদের চেকআপ শেষে ওষুধ দিয়ে দিনের কাজ শেষ করা হয় কেন্দ্রটিতে। এছাড়া মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটির নার্সদের বিরুদ্ধেও রয়েছে অনিয়মের অভিযোগ।
বাদিয়াখালী মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি আলাই নদের পাশে অবস্থিত। পাকা রাস্তা থেকে নামার পর হেঁটে আলাই নদের পাড় দিয়ে ২ মিনিটেই যাওয়া যায় কেন্দ্রটিতে। বন্যার সময় কাঁচা রাস্তাটি নদীতে ভেঙে যায়। এরপর থেকে নদীর পশ্চিম পাশের রাস্তা দিয়ে পায়ে হেঁটে যেতে হয় কেন্দ্রটিতে। ওই পথ দিয়ে রিকশা-ভ্যান চলাচল করতে পারে না। অব্যাহত নদীভাঙনে কেন্দ্রটিতে যাওয়ার রাস্তা বিলীন হয়ে গেছে। চারপাশে প্রাচীর ঘেরা দোতলা ভবনটির পেছনে একটি আবাসিক ভবন রয়েছে। ভবনটিতে মেডিকেল অফিসার থাকার কথা থাকলেও সেখানে থাকেন নার্স ও আয়া। এছাড়া রয়েছে ফ্যামিলি প্ল্যানিং ইন্সপেক্টরের বসার কক্ষ, গাড়ি রাখার গ্যারেজ ও পিয়ন কাম চৌকিদারের থাকার জন্য একটি কক্ষ। এতকিছু থাকার পরও কেন্দ্রটি কোনো কাজে আসছে না।
মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রটিতে মেডিকেল অফিসারসহ ১১টি পদ রয়েছে। একজন ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার ভিজিটর (এফডব্লিউভি), ফ্যামিলি প্ল্যানিং ইন্সপেক্টর, নার্স ও আয়াসহ চারজন কর্মরত রয়েছেন। বাকি সাতটি পদ শূন্য।
স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজ আল আসাদ রুবেল জানান, আগে পাঁচ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে গর্ভবতী নারীদের নিয়মিত চিকিৎসা দেয়া হতো। জনবল সংকটের কারণে গর্ভবতী নারীরা কেন্দ্রটিতে আসেন না। সকাল ১০টার পর কেন্দ্রটি খোলা হলেও বেলা ১টা থেকে দেড়টার মধ্যেই বন্ধ করে দেয়া হয়। কেন্দ্রটিতে সার্বক্ষণিক কেউ না থাকায় ১৩ কিলোমিটার দূরে জেলা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে (মাতৃসদন) যান প্রসূতিরা।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. তারিকুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শুধু বাদিয়াখালী মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটিই নয়, পুরো জেলায় আমাদের জনবল সংকট রয়েছে। এ কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। নতুন করে জনবল নিয়োগ হলে এ সমস্যার সমাধান হবে।’










