এক মাস ধরে জেনারেটর অকেজো থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলেই অফিসের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ছে। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে সেবাগ্রহীতাদের।
অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন এ অফিসে ৭০-১০০টি পাসপোর্টের আবেদন জমা পড়ে এবং সমপরিমাণ পাসপোর্ট সরবরাহ করা হয়। আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট), ছবি তোলা ও ডাটা এন্ট্রিসহ প্রতিটি ধাপই বিদ্যুৎনির্ভর। কিন্তু এক মাস আগে জেনারেটর বিকল হওয়ার পর বর্তমানে লোডশেডিংয়ের কারণে কোনো কাজই সময়মতো শেষ করা যাচ্ছে না।
সরজমিনে দেখা যায়, সকাল ১০টা থেকে পাসপোর্ট অফিসে বসে অপেক্ষা করছেন টুঙ্গিপাড়ার সম্পা বাড়ৈ নামের এক সেবাগ্রহীতা। প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করলেও বিদ্যুৎ না থাকায় বেলা ১টা পর্যন্ত তার ছবি ও আঙুলের ছাপ নেয়া সম্ভব হয়নি। কোটালীপাড়া থেকে আসা সুমি নামের আরেকজন সেবাগ্রহীতাও একই ভোগান্তিতে পড়েছেন। জরুরি চিকিৎসার জন্য পাসপোর্ট প্রয়োজন তার। কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে সব কাজ আটকে আছে।
বিদ্যুৎ সংকটে সেবায় বিঘ্ন ঘটার বিষয়টি স্বীকার করে গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক মো. নুরুল হুদা বলেন, ‘বিকল জেনারেটরটি অনেক পুরনো হওয়ায় নতুন একটি স্থাপনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে। জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমাদের অফিসে দুটি ফিডার থাকা প্রয়োজন। যাতে এক ফিডারে লোডশেডিং থাকলে অন্যটি দিয়ে কাজ চালানো যায়। বর্তমানে একটি ফিডার থাকায় আমরা ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কাছে বিকল্প সংযোগের আবেদন করেছি।
ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মঈন উদ্দিন জানান, শহরে ১৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ন্যাশনাল গ্রিড থেকে মাত্র ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ মিলছে। ফলে দিনের অর্ধেক সময় রোটেশন ভিত্তিতে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
পাসপোর্ট অফিসের আবেদনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কাছাকাছি অন্য ফিডার থাকলে সংযোগ দেয়া সম্ভব, তবে এর ব্যয় সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে বহন করতে হবে।’










