লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার গঙ্গাপুর গ্রামে মিশ্র ফলের বাগান গড়ে তুলেছেন সৈয়দ আহাম্মদ ও তার ছেলে সাইফুল ইসলাম। প্রথমে তারা খুরমা খেজুর চাষ করেন। তবে তাতে ২৪ লাখ টাকা লোকসান হয়। এবার আগাম জাতের আম্রপালি, কাটিমন ও বেনানা আম, মাল্টা, কমলা, ড্রাগন, পেঁপে, নারিকেল বাগান করে সফলতা পেয়েছেন।
সৈয়দ আহাম্মদ জানান, সৌদি আরবে একটি কৃষি খামারে কাজ করতেন তিনি। পরে ছেলে সাইফুলকেও নিয়ে যান। সঞ্চিত অর্থ দিয়ে শাকচরে দুই একর ধানি জমি ক্রয় করেন। দেশে ফিরে খুরমা খেজুর চাষ করেন। তবে ফল না ধরায় তাদের ২৫ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হয়। পরে সেখানে মিশ্র ফলের বাগান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। শুরুতে জমির চারপাশে নারিকেল গাছ রোপণ করেন। বর্তমানে তাদের বাগানে ১৫০টি নারিকেল গাছ ফলন দিতে শুরু করেছে। পরবর্তী সময়ে তারা মূল বাগানকে ভাগ ভাগ করে ড্রাগন, আম, মাল্টা, কমলা লেবুর চারা রোপণ করেন। পাশাপাশি এসব গাছের ফাঁকে পেঁপের চারা রোপণ করেন। চার বছর ধরে লাগানো গাছে ফল ধরতে শুরু করেছে। ফল বিক্রি করে তাদের ভালো আয়ও হচ্ছে। বাগান থেকেই ব্যবসায়ীরা ফল নিয়ে বিক্রি করছেন।
কৃষি উদ্যোক্তা সৈয়দ আহাম্মদ জানান, তিনি পড়ালেখা তেমন জানেন না। ছেলে সাইফুল ইউটিউব দেখে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কৃষি অফিস তাদের পরামর্শ দিচ্ছে। এছাড়া কোডেক নামে একটি এনজিও আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। গত বছর তারা ফল বিক্রি করে ৮ লাখ টাকা আয় করেছেন। এবার আরো বেশি আয় হবে।
এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সোহেল মো. সামছুদ্দীন ফিরোজ বলেন, ‘সাইফুলকে জেলার শ্রেষ্ঠ ফলচাষীর পুরস্কার দিয়েছে কোডেক। কৃষি বিভাগ তাকে সব ধরনের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। সাইফুলদের মতো অন্য কেউ ফলের বাগান করতে চাইলে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সহায়তা করা হবে। এর মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনে নিজেরা যেমন স্বাবলম্বী হবে, পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর তথা দেশে ফলের সংস্থান হবে।’










