চরাঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সেবায় লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে চালু করা হয় ‘স্বপ্নযাত্রা অ্যাম্বুলেন্স’। এটি পরিচালনার দায়িত্বও দেয়া হয় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের। তবে কয়েকজন চেয়ারম্যানের কর্মকাণ্ডে প্রশ্নবিদ্ধ হয় জেলা সার্ভিসটি। অভিযোগ রয়েছে, নির্দেশ অমান্য করে জনপ্রতিনিধিরা ‘ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক’ কাজে ব্যবহার করছেন রোগী বহনকারী এসব অ্যাম্বুলেন্স। এবার ঢাকায় যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেছে অ্যাম্বুলেন্সটিতে। 

গতকাল শহরের ঝুমুর এলাকা থেকে ঢাকাগামী যাত্রী নেয়া হয় রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সে। প্রত্যেক যাত্রীর কাছ থেকে ৭০০ টাকা করে ভাড়া উত্তোলনও করেন অ্যাম্বুলেন্সচালক।

অ্যাম্বুলেন্সটি সদর উপজেলার শাকচর ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে চলাচল করে। অ্যাম্বুলেন্সচালক নুরুল আমিন বলেন, ‘ঈদের পরে সড়কে ঢাকাগামী যাত্রী বেশি। তবে সে তুলনায় গাড়ি নেই। তাই অ্যাম্বুলেন্সে যাত্রী নিয়েছি। প্রশাসন আমাকে অ্যাম্বুলেন্স দিয়েছে জনগণের সেবা দেয়ার জন্য।’ তবে যাত্রী বহনে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলা প্রশাসকের অনুমতি রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি তিনি।

জানতে চাইলে শাকচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সে যাত্রী বহনের বিষয়টি দুঃখজনক। ঘটনাটি জানার পরই চালককে ফোন করেছি। নিষেধ করা হয়েছে রোগী ছাড়া অন্যদের বহন না করতে। চালকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তবে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি দুঃখজনক। স্বপ্নযাত্রা অ্যাম্বুলেন্সে রোগীর পরিবর্তে যাত্রী বহনের দায়ে চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

২০২২ সালে জেলা ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের অর্থায়নে লক্ষ্মীপুর সদর, রায়পুর, রামগতি, রামগঞ্জ, কমলনগরের জন্য প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬টি অ্যাম্বুলেন্স কেনা হয়।