ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ আবদুস সালাম। শহীদ আবদুস সালামের গ্রামের বাড়ি ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার লক্ষ্মণপুর (বর্তমানে সালাম নগর) গ্রামে। গ্রামটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে হওয়ায় সারা বছর কেউ এখানে আসেন না। খোঁজ রাখেন না সালামের পরিবারের। তবে ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি শুরু হলেই কদর বাড়ে এ গ্রামের। এ মাসেই গ্রামটিতে পা রাখেন দেশের বিশিষ্টজন, গণমাধ্যমকর্মী ও প্রশাসনিক কর্তারা।
ভাষাশহীদ সালামের নামে তার বাড়ির সামনে ভাষাশহীদ আবদুস সালাম গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হলেও সেখানেই বছরজুড়ে থাকে সুনসান। পাঠককে গ্রন্থাগারমুখী করতে প্রশাসনের কোনো উদ্যোগও নেই। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
ভাষাশহীদ সালাম সম্পর্কে আগামী প্রজন্মকে জানাতে পাঠ্যপুস্তকে আরো বেশি অন্তর্ভুক্তিকরণ, গ্রামের বাড়ির সামনে উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন, তোরণ নির্মাণ, গ্রন্থাগারে নতুন নতুন বই সংযোজন এবং একটি বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এছাড়া শহীদ সালামদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ভাষা বাংলাকে সর্বস্তরে চালু করার দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্টজনরা।
সরজমিনে ভাষাশহীদ সালাম স্মৃতি পাঠাগার ও জাদুঘরে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বৃহদায়তনের গ্রন্থাগারের আলমারিতে কয়েক হাজার বই সাজানো আছে। এ গ্রন্থাগারে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও কোনো পাঠকের দেখা পাওয়া গেল না।
গ্রন্থাগারিক লুৎফর রহমান বাবলু জানান, গ্রন্থাগারে সাড়ে তিন হাজার বই রয়েছে। সবই পুরনো। বছরজুড়ে গ্রন্থাগারটি পাঠকের জন্য খোলা রাখা হলেও পাঠকের আনাগোনা খুবই কম।
শহীদ আবদুস সালামের ভাতিজা নুরে আলম বলেন, ‘জাদুঘরের পাশেই ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক। এ সড়কের পাশে ভাষা শহীদ আবদুস সালামের নামে একটি তোরণ নির্মাণ করা হলে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও আবদুস সালামের নাম আরো বেশি স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ’
শহীদ সালামের ভাগ্নে মো. হানিফ বলেন, ‘আমার মামার নামে এ গ্রামের নামকরণ করা হয়েছে। কিন্তু সারা বছর এখানে কেউ আসে না। শুধু ফেব্রুয়ারি এলেই সবাই আমাদের খোঁজেন; কর্মসূচি পালন করেন। এখানে বিনোদন পার্ক ও উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। তাহলে একদিকে এ গ্রামের সাথে জনসম্পৃক্ততা বাড়বে; অন্যদিকে গ্রন্থাগারে পাঠকের শূন্যতাও পূরণ হবে। মানুষ ভাষা আন্দোলন ও শহীদ সালামকে জানার সুযোগ পাবে।’
ভাষাশহীদ আবদুস সালাম স্মৃতি পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন জানান, ভাষা আন্দোলনের গৌরব গাথা ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। সালামদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলা ভাষা দেশের সর্বস্তরে চালু করার উদ্যোগ নিতে হবে।’ সালাম নগরে বছরজুড়ে জনসমাগম নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
ফেনী জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ উল হাসান জানান, ভাষাশহীদ সালামের গ্রামের সাথে আমাদের আগামী প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের লক্ষণপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ভাষাশহীদ আবদুস সালাম। বাংলা ভাষা রক্ষার আন্দোলনে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন তিনি। সেখানে পুলিশের গুলিতে আহত হন আবদুস সালাম। পরে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করলে তাকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরিবার ও স্বজনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ভাষা আন্দোলনের ৬৫ বছর পর ২০১৭ সালে আজিমপুর কবরস্থানে আবদুস সালামের কবর শনাক্ত করা হয়।










