শুরু থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র জসীমউদ্দিন খান জড়িত ছিলেন আন্দোলনে। ১৮ জুলাই ছিল কমপ্লিট শাটডাউনের প্রথম দিন। দুপুর ১২টার তিনি মৌচাক মোড়ে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্রদের সঙ্গে যোগ দেন। বিকালে খবর আসে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্রদের ওপর হামলার। তারা সিদ্ধান্ত নেন সেখানে যাওয়ার। রামপুরা ওভারব্রিজ পর্যন্ত এগিয়েও গিয়েছিলেন কয়েকজন। নেহায়েত দাঁড়িয়ে ছিলেন তারা সেখানে; অতর্কিতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল ও ছররা গুলি মারতে মারতে এগিয়ে আসে। সম্ভবত প্রথম গুলিই বেছে নেয় জসীমের শরীর।

আহত হওয়ার পর সেখান থেকে তাকে নেয়া হয় শামসুল হক মেডিকেলে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর পাঠিয়ে দেয়া হয় ঢাকা মেডিকেল। দেশের অবস্থা তখন ক্রমেই আরো সংঘাতপূর্ণ দিকে বাঁক নিচ্ছে। চোখের যে ডাক্তার দেখানো দরকার, এমন অবস্থাও ছিল না। ২৩ জুলাই একাই একটা অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে বাড়ি চলে যান জসীম। যেহেতু চাকরিকেন্দ্রিক ক্যারিয়ার করার চিন্তা; বিষয়গুলো জানাজানি হওয়াটা বিপজ্জনক ছিল পারিবারিক চোখে। তার পরও ডাক্তার দেখানো হলো সাধ্যমতো। তারা দ্রুত অপারেশন করার পরামর্শ দিলেন। ফের ঢাকা এলেন জসিম। ২৭ জুলাই হাসপাতালে ভর্তি হলেন। অপারেশন হলো ২৮ জুলাই। এলাকায় যাওয়াটা বিপজ্জনক হওয়ায় ২৯ জুলাই চট্টগ্রাম চলে যেতে হয় তাকে। সেখানেই থেকেছেন ৬ আগস্ট পর্যন্ত। ডাক্তার বলে দিয়েছেন, চোখ আর ঠিক নাও হতে পারে। শরীরের গুলিগুলো টের পান চলাফেরার সময়। কিন্তু দেশের অবস্থার জন্য চোখ আর চোখের কারণে শরীরের অন্য ক্ষতগুলো দেখানোর সময়টা হয়ে ওঠেনি। জসীম বলেন, ‘গুনে দেখেছি, ৮৫টা গুলি আমার গায়ে। বেঁচে যে আছি, এটাই অনেক। তবে সমস্যা হলো বাম চোখের গুলি। গুলি লাগার পর থেকে অপারেশনের আগ পর্যন্ত কিছুই দেখতাম না। এখন কিছু না দেখলেও আলো ও আঁধারের পার্থক্যটা বুঝতে পারি। দুই চোখ দিয়ে স্বাধীনতা দেখা হয়নি বলে আক্ষেপ লাগে মাঝে মাঝে। তবে প্রিয় দেশটা যে স্বৈরাচারমুক্ত, এটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার।’