স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরো তিন বছর বাড়ানোর প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করেছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। এ সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেছে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন। এর ফলে এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের নতুন সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গতকাল এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। বর্ধিত এ সময়ে অর্থনীতির সক্ষমতা বৃদ্ধি, রফতানি বহুমুখীকরণ এবং এলডিসি-সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যসুবিধা ও আন্তর্জাতিক সহায়তা হারানোর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবেলায় প্রস্তুতি নেয়ার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আইরিন জুবাইদা খান বলেন, ‘বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণ করছে শুধু আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ার কারণে নয়, বরং উত্তরণ আমাদের জনগণের আকাঙ্ক্ষা। এটি একটি জাতীয় অপরিহার্যতা এবং আমাদের সরকার এ লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্থায়ী মিশন বলছে, নতুন সরকার গঠনের পর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর আবেদন করে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতি, জ্বালানি ও সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে এ আবেদন করা হয়।
জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটি (সিডিপি) বাংলাদেশের আবেদনের পক্ষে সুপারিশ করার পর গত ২১ জুলাই জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) বিষয়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সাধারণ পরিষদে পাঠায়।
আবেদনের পক্ষে কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে নিতে সরকার তিন বছরের একটি কর্মপরিকল্পনাও প্রণয়ন করে। এতে প্রতি বছরের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি ও লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্ধিত সময়ে কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা, রফতানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা, অবকাঠামো ও সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে।
অতিরিক্ত এ সময় কাজে লাগিয়ে প্রতিযোগিতামূলক, বহুমুখী ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সক্ষমতা বাড়ানোই এখন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।












