কক্সবাজারের উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইনানী ছোটখাল ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় মাটি থেকে নির্গত গ্যাসের আগুন নিয়ন্ত্রণে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১৪৪ ধারা জারি করেছেন উপজেলা প্রশাসন। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ, অবস্থান এবং বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পান্না আক্তার গতকাল ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৪৪ ধারায় এ আদেশ জারি করেন।
উপজেলা প্রশাসনের জারি করা গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইনানী ছোটখাল ব্রিজসংলগ্ন একটি বাড়িতে নলকূপ স্থাপনের সময় গভীরে পাইপ প্রবেশ করানোর পর্যায়ে মাটি থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর থেকে ঘটনাস্থলে গ্যাসের আগুন জ্বলতে থাকে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট কাজ করে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত থাকার সম্ভাবনা বিবেচনায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) একটি কারিগরি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তারা ভূতাত্ত্বিক বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করে।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে গত ২৯ অক্টোবর একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আগুনের উৎস ও সংলগ্ন এলাকাকে বিভিন্ন নিরাপত্তা জোনে বিভক্ত করে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।
আদেশে আরো বলা হয়েছে, গ্যাস নির্গত হওয়ার ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় আগুন জ্বালানো, ধূমপান, দিয়াশলাই কিংবা লাইটার ব্যবহারসহ অগ্নিসংযোগের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে— এমন সব কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করতে সাধারণ মানুষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বিশেষ করে গ্যাস নির্গমনের স্থান থেকে চারপাশের ২০০ মিটার এলাকার মধ্যে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কেউ এ আদেশ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা প্রশাসনের এ আদেশের অনুলিপি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপার, সহকারী কমিশনার (ভূমি), উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের অনুরোধও জানানো হয়েছে।
এর আগে আগুনের ঝুঁকি বিবেচনায় ঘটনাস্থলের চারপাশে প্রায় ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরির উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। বাপেক্সের বিশেষজ্ঞরা গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। তবে গ্যাসের প্রকৃতি ও উপাদান সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য পরীক্ষাগারের বিশ্লেষণ প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, জোর করে গ্যাসের নির্গমন বন্ধ বা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে নতুন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
উখিয়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের ঘটনাস্থলে ভিড় না করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, পর্যটন এলাকা ইনানীতে টানা ৪ দিন ধরে ভূগর্ভ থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে আগুন জ্বলতে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে ১৪৪ ধারা জারির পাশাপাশি গ্যাসের উৎস শনাক্ত ও পরিস্থিতি মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।















