যেকোনোভাবেই হোক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগ করতে হবে। গত ১৭ জুলাই বিকালে এমন খবর পেয়ে আমরা রেজিস্ট্রার অফিসের সামনে জড়ো হই। তখন মিটিং চলছিল। শেষ হওয়ার ১ ঘণ্টা আগেই বিকাল ৪টায় আন্দোলনকারীরা জড়ো হতে থাকে। ভিসি ছাত্রদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে হামলার নির্দেশ দেয়। হঠাৎ দেখি আমার মাথা থেকে রক্ত পড়ছে। পুলিশ হামলা শুরু করেছে। আমার গায়ে ৯১টি ছররা গুলি লাগে। বুকের দুই পাশে ২০টি, এক হাতে ৩৬টি, অন্য হাতে ২৫টি, মাথায় দুটি, গালে একটি ও পায়ে দুটিসহ বিভিন্ন জায়গায় ৯১টি গুলি লাগে। ৮০টি এখনো রয়ে গেছে।
হামলার পর কয়েকজন যখন আমাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছিল পুলিশ তাদের ওপরও গুলি করে। পরে গাড়ি না পেয়ে আমাকে কাঁধে করে নিয়ে যাওয়া হয়। ক্যাম্পাসের মেডিকেলে গেলে বলা হয় সেখানে রাখা সম্ভব না। তারপর নিয়ে যাওয়া হলো এনাম মেডিকেলে। সেখানে আইসিইউতে রাখা হয়। প্রায় ১০ ঘণ্টা অজ্ঞান ছিলাম। শুধু ওষুধ দিয়ে আমাকে রাখা হয়। একটা গুলিও বের করেনি। ডান হাতটি কাজ করছিল না। ডাক্তারদের বললাম হাত কাজ করছে না, চিনচিন করছে, হাড় ও রগের মধ্যে গুলি। তারা একটি গুলিও বের করেনি। ২৫ জুলাই আমাকে রিলিস দেয়া হয়। এরপর নাটোরের বাসায় চলে যাই। কারফিউর জন্য ঢাকায় ফিরতে পারছিলাম না, তাই চিকিৎসাও থেমে যায়।
৮ আগস্ট ঢাকায় ফিরে ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসা নিই। এখনো ডান হাতের তালু জ্বালাপোড়া করে, সবসময় বরফ দিয়ে রাখতে হয়। মনে হয় কেউ ভেতরে মরিচ দিয়ে রেখেছে। নার্ভ মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। ঠিক হতে কয়েক বছর লাগতে পারে। কবে ঠিক হবে তাও ডাক্তাররা নিশ্চিত না। চিকিৎসার জন্য ৪-৫ লাখ টাকা লাগবে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আহতদের চিকিৎসার খরচ দেবে শুনেছি, তবে চিকিৎসা শেষে। কিন্তু এখন চিকিৎসার খরচ কোথায় পাব? একটি গুলি বের করতে ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ছয়টি সার্জারি করতে হবে। একসঙ্গে ছয়-সাতটি গুলি বের করতে পারব। কারণ শরীর অনেক দুর্বল ও প্রচুর রক্ত ক্ষরণ হয়েছে।
শাকিল আলী
ইতিহাস বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়









