একটি মার্বেল কেবল কাগজের পথ ধরে গড়িয়ে যাচ্ছে, আর তা দেখে শিক্ষার্থীরা যেন হারিয়ে গেছে বিস্ময়ের জগতে। সূক্ষ্ম বাঁক, হালকা ঢাল, সবকিছু এমনভাবে সাজানো, যেন বাস্তবের রোলার কোস্টারের মিনি সংস্করণ। মার্বেল গড়িয়ে দেয়ামাত্রই নিস্তব্ধতা নেমে আসে, চোখে চোখ রেখে সবাই পর্যবেক্ষণ করতে থাকে, কার নকশা সবচেয়ে স্থিতিশীল, কে কতক্ষণ টিকে থাকবে। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পুরকৌশল বিভাগে এমনই প্রাণবন্ত দৃশ্য দেখা গেছে।

বিশ্বব্যাপী পুরকৌশলীদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি পেশাদার সংস্থা ‘আমেরিকান সোসাইটি অব সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স (এএসসিই)’। গবেষণা ও উদ্ভাবনভিত্তিক এ সংগঠনের চুয়েট শাখা প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সৃজনশীল ও জ্ঞানভিত্তিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এ বছর ১৭-১৮ অক্টোবর আয়োজন করে দুই দিনব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক উৎসব ‘এনভিশন ২.০’।

11

এ আয়োজনে জি কোস্টার কম্পিটিশন ছাড়াও রয়েছে অটোক্যাড প্রতিযোগিতা (ক্যাডজিলা), কেইসকুয়েস্ট, রিসার্চ পেপার কম্পিটিশন, মেকানিকস অলিম্পিয়াড, টেকসই সমস্যা সমাধান ও উপস্থাপনা। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এসব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের উপস্থাপনা দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা, দলগত কাজের অভ্যাস ও নেতৃত্বের গুণাবলি বৃদ্ধি করবে।

এ বিষয়ে টেকসই সমস্যা সমাধান ও উপস্থাপনায় অংশগ্রহণকারী চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া ইসলাম ইভা বলেন, ‘আজকের ইনভিশন-২.০-তে টেকসই সমাধান প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছি। এখানে কয়েকটি নকশা সমস্যা দেয়া হয়েছিল, যা বাস্তবধর্মীভাবে সমাধান করে টেকসইতা বজায় রাখছে এমনটা দেখাতে হয়েছিল। এখানে অংশগ্রহণ করে ভালো লাগছে। নতুন অনেক কিছু শিখেছি।’

এএসসিই চুয়েট শাখার সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ শিমুল বলেন, ‘আমরা সবসময় শিক্ষার্থীদের পাঠ্যজ্ঞানকে বাস্তব ইঞ্জিনিয়ারিং কনসেপ্টের সঙ্গে যুক্ত করে প্রতিযোগিতায় সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করি। শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বসিত অংশগ্রহণ আমাদের আরো এ ধরনের কার্যক্রম আয়োজনের প্রেরণা দেয়। আশা করি, ভবিষ্যতেও এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।’

আয়োজক সংগঠনের অনুষদ উপদেষ্টা পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আয়েশা আক্তার জানান, গত বছরও আমরা এ ধরনের একটি প্রতিযোগিতার সফল আয়োজন করেছিলাম। এবার ছয়টি সেগমেন্টে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এ বছর প্রতিযোগিতায় একটি নতুন বৃহৎ সেগমেন্ট যুক্ত করা হয়েছে—সাসটেইনেবল সলিউশন কম্পিটিশন। এ সেগমেন্টকে কেন্দ্র করে আমরা একটি টিমকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য মনোনয়ন দেয়ার পরিকল্পনা করছি।