ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন সোহেল হোসেন। ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে তিনি বিভাগটিতে ভর্তি হন। স্নাতক শেষ করে তিনি ২০২৩ সালে চীনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ পেয়ে ভাষা প্রোগ্রামে অংশ নেন। বর্তমানে বাংলাদেশের একটি কোম্পানিতে নিজের ভাষা দক্ষতা কাজে লাগিয়ে চীনা ভাষার দোভাষী হিসেবে কাজ করেন তিনি।
চাইনিজ ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগে ভর্তি নিয়ে বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘চাইনিজ ভাষা ও সংস্কৃতিতে ভর্তি হওয়ার পর একটা সময় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিষণ্নতার মধ্যে যেতে হয়। সবকিছুই নতুন—নতুনভাবে শিখতে হয় বর্ণমালা, শব্দগঠন, বাক্য তৈরি। পাশাপাশি অভ্যস্ত হতে হয় চাইনিজ শোনা ও বলায়। পরীক্ষার খাতায় লেখার জন্য শিখতে হয় চীনা ভাষায় লেখালেখি। এ পুরো সময়টা কঠিন ছিল। তবে কষ্ট করে একবার শিখে ফেলতে পারলে বাকিটা সহজ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে আমরা শিক্ষক ও বিভাগের বড় ভাইদের কাছ থেকে সহায়তা নিতাম। সবাই এমনই করত। আমরা ছিলাম আমাদের বিভাগে দ্বিতীয় ব্যাচ, তাই সহজেই সহায়তা পেতাম।’
তিনি আরো জানান, ‘আমি চাইনিজ ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী। যেহেতু নতুন একটি বিভাগ ছিল, তাই তেমন কোনো পূর্বজ্ঞান বা ধারণা ছিল না। বিষয় পছন্দক্রম সাজানোর আগে আমি আমার তালিকায় থাকা বিষয়গুলো নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করি। এরপর ভাষাকে তালিকার সবার ওপরে রাখি। এর পেছনে মূল কারণ ছিল আমার আগ্রহ ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্য। ভাষার প্রতি আগ্রহটা আগে থেকেই ছিল। চীনা ভাষার প্রতি প্রাথমিক ধারণা পেয়েছিলাম চীনা চলচ্চিত্র থেকে। আমি এবং আমার বড় দুই ভাই অনেক আগে থেকেই চীনা চলচ্চিত্র দেখি, তাই বিষয়টি বেছে নিতে খুব বেশি ভাবতে হয়নি।’
সোহেল বলেন, ‘ভাষাগত দক্ষতা থাকলে চীনে উচ্চশিক্ষার জন্য সুযোগ মেলে। চীনা অনুবাদ, সাহিত্য, ইতিহাস কিংবা চাইনিজ টিচিং—এমন নির্দিষ্ট বিষয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডি করার সুযোগ রয়েছে। চাইলে কেউ আবারো স্নাতক করতে পারে অথবা এক বছরের একটি ভাষা কোর্সও করতে পারে। আমি সেটাই করেছি। ২০২৩ সালে আমাদের দ্বিতীয় ব্যাচ থেকে ১২ জন স্কলারশিপ পেয়েছিলাম চীনের গুয়াংশি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বছরের ভাষা প্রোগ্রামে অংশ নিতে। আমরা ১১ জন সেখানে গিয়েছিলাম এবং উচ্চতর চীনা ভাষার দক্ষতা অর্জন করে ফিরেছি। এখন সেই দক্ষতার সনদ দিয়ে আবার মাস্টার্স করতে চীনে যাচ্ছি নয়জন। এ স্কলারশিপে আমাদের পড়াশোনার খরচ, আবাসন, চীনে যাতায়াত এবং স্বাস্থ্য বীমাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যেহেতু চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছি, এবার আমরা নির্দিষ্ট বিষয়ে স্নাতকোত্তর করতে যাচ্ছি। আমি বেছে নিয়েছি অনুবাদ অধ্যয়ন বিষয়টি। এটি একটি তিন বছরের দীর্ঘ কোর্স। ২০২৮ সালে কোর্সটি শেষ হবে এবং আমি একজন পেশাদার অনুবাদক ও দোভাষী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে পারব।’










