চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ক্যাম্পাসে স্বাধীনতা চত্বরে দেখা মেলে এক ফুডকোর্টের। আশপাশে ভিড় করে আছেন কিছু শিক্ষার্থী। অনেকেই দাঁড়িয়ে আছেন অপেক্ষায়। তৈরি করা হচ্ছে বার্গার, মিটবক্স। রয়েছে পানীয়েরও ব্যবস্থা। চাহিদার তুলনায় ক্রেতা বেশি। তাই অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে অনেকে জমিয়েছেন গল্প। কেউ পাশে বসে গাইছেন গান, সুর তুলছেন গিটারে। 

আশপাশের সব দোকান বা ফুডকোর্ট থেকে এর রয়েছে একটু ভিন্নতা। কারণ এর বিক্রেতা অন্য কেউ নন, বরং চুয়েটেরই শিক্ষার্থী মো. জহিরুল ইসলাম ফাহিম। তার এ ফুডকোর্টের যাত্রা শুরু হয় এপ্রিলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে এক ফুডকোর্ট দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে করা হয় সর্বোচ্চ সহযোগিতা। আশপাশের মানুষের অনুপ্রেরণায় আর এক বুক সাহস সঞ্চয় করে সাজিয়ে ফেলেন এ ফুডকোর্ট। এর পর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। প্রতিদিনই বাড়ছে ক্রেতা।

জহিরুল বলেন, ‘আমার রান্না করতে ভালো লাগত। ভেবেছিলাম একটা রেস্টুরেন্ট দেব। কিন্তু মূলধন নেই। এর আগে আমি একবার টি-শার্টের ব্যবসা করেছিলাম। কিন্তু তা ফলপ্রসূ হয়নি। তবে সাহস করে এ ফুডকোর্টটা চালু করেছিলাম। তড়িৎ বিভাগের ছাত্র হওয়ায় ইলেক্ট্রোডের সঙ্গে মিল রেখে নাম দিয়েছিলাম টেস্টট্রোড। আলহামদুলিল্লাহ, এখন এটা ভালোই চলছে। এত ক্রেতা যে আমার পক্ষে ফুলটাইম কাজ করা সম্ভব না। তাই দুজন লোক রাখা হয়েছে।’

জহিরুলের এ পরিকল্পনা আসে টিউশনির এক ছাত্রকে পড়ানোর সময়। তার ছাত্রের সঙ্গে বসে চিন্তা করেন একটা ফুডকোর্ট দেবেন। মজার ব্যাপার হলো, ফুডকোর্ট চালু করার প্রথম দুদিন তার সেই ছাত্রও কাজ করেছেন তার সঙ্গে।

জহিরুলের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। পড়ালেখা করেছেন হবিগঞ্জে। রেস্টুরেন্টের মালিক হওয়ার স্বপ্ন ছোঁয়ার আগে ভবিষ্যতে এ দুই জায়গাতেই এমন আরো দুটি ফুডকোর্ট দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। আগে ইউনিক স্কুলিং নামে একটি স্টার্টআপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রিসার্চ বাডি নামে একটা স্টার্টআপেও কাজ করছেন। এগুলোকে আরো সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা তার। নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন জহিরুল।

জহিরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস বিভাগের বিদায়ী বর্ষের শিক্ষার্থী। কিছুদিনের মধ্যেই ক্যাম্পাস ছেড়ে যাবেন। তিনি চান তার স্বপ্নের এ ফুডকোর্টটা হারিয়ে না যাক। তাই একই বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফাতিন ইশতিয়াক এবং যন্ত্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাফি হাসানকে করেছেন তার ব্যবসার সঙ্গী। তারাও এখন এই ফুডকোর্টটার দেখভাল করছেন। জহিরুল বিশ্বাস করেন, চুয়েট ছেড়ে যাওয়ার পর তার অনুপস্থিতিতে, এ স্বপ্নের ফুডকোর্টটিকে ফাতিন ও রাফি আরো বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবেন।