পেশাজীবনের আগে একজন শিক্ষার্থী কিংবা গ্র্যাজুয়েটের দক্ষতা বৃদ্ধির এক অনন্য সুযোগ ইন্টার্নশিপ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কর্মক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করে ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে সফল হতে দিকনির্দেশনা পেয়ে থাকেন। ইন্টার্নিরা একটি কোম্পানির দৈনন্দিন ব্যবসা, কৌশল, পরিকল্পনা, নীতিসহ অনেক কিছু সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন। একজন ইন্টার্নি ব্রেনস্টর্মিং সেশন এবং মিটিংয়ে অংশ নিতে পারেন। কোম্পানিকে নানা পরামর্শও দিতে পারেন। ভালো একটি প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ তৈরির একটা ভালো মাধ্যম হলো ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম।

ইন্টার্নশিপ কী?

ইন্টার্নশিপ একজন শিক্ষার্থীকে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের অধীনে কাজ করার সুযোগ প্রদান করে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কর্মক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, যা তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে সফল হতে সাহায্য করে। পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে বাধ্যতামূলক না হলেও অনেক শিক্ষার্থীই শিক্ষাজীবনের শেষে ঐচ্ছিকভাবে ইন্টার্নশিপকে বেছে নেয় কর্মক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জনের উদ্দেশ্যে। ইন্টার্নশিপের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে একজন শিক্ষার্থীকে তার মূল কর্মজীবন শুরু করার আগে কর্মক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে সাহায্য করা। প্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী ইন্টার্নশিপের সময় সাধারণত তিন মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই ইন্টার্নশিপ সময়ে পারিশ্রমিক হিসেবে শিক্ষার্থীদের শিক্ষানবিশ ভাতা প্রদান করে।

পেমেন্টের ওপর নির্ভর করে দুই ধরনের ইন্টার্নশিপ হয়। পেইড ইন্টার্নশিপে ইন্টার্নিকে মাসিক বা এককালীন একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ শিক্ষানবিশ ভাতা প্রদান করা হয়। নন-পেইড ইন্টার্নশিপের ক্ষেত্রে কোনো ভাতা প্রদান করা হয় না। আবার কাজের ধরন অনুযায়ী দুই ধরনের ইন্টার্নশিপ হয়ে থাকে। প্রথমটি প্রজেক্ট বেজড ইন্টার্নশিপ ও অন্যটি সাধারণ ইন্টার্নশিপ। কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্পের অধীনে কাজের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো যেসব ইন্টার্নশিপ প্রদান করে সেটি হচ্ছে প্রজেক্ট বেজড ইন্টার্নশিপ। আর প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত ও সাধারণ কাজের জন্য হচ্ছে রেগুলার ইন্টার্নশিপ।

কেন গুরুত্বপূর্ণ?

শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থানের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ইন্টার্নশিপ। এটি এমন এক বাস্তব অভিজ্ঞতা দেয়, যা শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রশিক্ষণকে পূর্ণতা দেয়। ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে শিক্ষার্থী এবং সম্প্রতি গ্র্যাজুয়েটরা তাদের শিল্পের নির্দিষ্ট দক্ষতা উন্নয়নে পেশাদার নেটওয়ার্ক বিকশিত করতে পারে। চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতামূলক হতে পারে। এ অভিজ্ঞতাগুলো কাজের পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা তৈরি করে, আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং দ্রুত কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয়। অনেক নিয়োগকর্তা ইন্টার্নশিপের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রার্থীদের পছন্দ করেন।

কোথায় খুঁজবেন?

সঠিক ইন্টার্নশিপ খুঁজে পাওয়া চ্যালেঞ্জিং হতে পারে, তবে নির্ভরযোগ্য কিছু উৎস রয়েছে। অনলাইন জব পোর্টাল, কোম্পানির ক্যারিয়ার পেজ এবং আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যারিয়ার সেন্টারের মাধ্যমে ইন্টার্নশিপ খুঁজতে পারেন। এছাড়া কিছু প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম অফার করে, যা ইন্টার্নশিপ খুঁজে পেতে সাহায্য করে।

অনলাইন প্লাটফর্ম

বাংলাদেশে ইন্টার্নশিপ খোঁজার জন্য একটি জনপ্রিয় প্লাটফর্ম হলো বিডিজবস। আপনি ফিল্টার ব্যবহার করে সহজেই ইন্টার্নশিপ খুঁজে নিতে পারেন। ইনডিড, গ্লাসডোরের মতো আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইটগুলোয় বিশ্বব্যাপী ইন্টার্নশিপের বিশাল ডাটাবেজ রয়েছে এবং আপনি আপনার পছন্দ অনুযায়ী ফিল্টার ব্যবহার করতে পারেন। লিঙ্কডইনে আপনি পেশাদারদের নেটওয়ার্কের মাধ্যমেও ইন্টার্নশিপের সুযোগ খুঁজে পেতে পারেন।

কোম্পানির ওয়েবসাইট

অনেক সংস্থা তাদের ওয়েবসাইটের ক্যারিয়ার সেকশনে ইন্টার্নশিপের সুযোগ তালিকাভুক্ত করে। নিয়মিত এ পেজগুলো অনুসরণ করলে হালনাগাদ তথ্য পেতে পারেন। নির্দিষ্ট কোনো কোম্পানিতে ইন্টার্নশিপ করতে চাইলে সরাসরি তাদের ওয়েবসাইটে ক্যারিয়ার পেজ সেকশনে যান। অনেক কোম্পানি তাদের ওয়েবসাইটে ইন্টার্নশিপের সুযোগ পোস্ট করে থাকে। যদি ক্যারিয়ার পেজে কোনো নির্দিষ্ট পদ না থাকে, তবে আপনি কোম্পানির ক্যারিয়ার পেজ থেকে একটি ই-মেইল ঠিকানা খুঁজে নিয়ে আপনার সিভি এবং একটি কভার লেটারসহ সরাসরি আবেদন করতে পারেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য উপায়

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যারিয়ার সেন্টারে ইন্টার্নশিপ সম্পর্কিত তথ্য এবং সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারেন। তারা আপনাকে বিভিন্ন নিয়োগকর্তার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতেও সাহায্য করতে পারে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠান তাদের শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম বা প্লেসমেন্ট সুবিধা দেয়। নেটওয়ার্কিং ইভেন্ট যেমন জব ফেয়ার, ইন্ডাস্ট্রি ইভেন্ট এবং পেশাদার সংগঠনগুলো সম্ভাব্য নিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য দারুণ। এ ধরনের ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে এক্সপার্টদের সঙ্গে দেখা এবং সরাসরি তথ্য সংগ্রহের সুযোগ পাবেন। কর্মক্ষেত্রে আছে বন্ধু, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং পেশাদারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন। তাদের মাধ্যমে আপনি ইন্টার্নশিপের সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারেন। কিছু কোম্পানি ভার্চুয়াল ইন্টার্নশিপও অফার করে। এক্ষেত্রে আপনি বিশ্বজুড়ে যেকোনো জায়গা থেকে ইন্টার্নশিপ করতে পারেন।

বাছাই করবেন যেভাবে

ইন্টার্নশিপ বাছাই করার ক্ষেত্রে প্রথমেই লক্ষ্য রাখতে হবে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে ইন্টার্নশিপটি মানানসই কিনা। এছাড়া যেকোনো প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ শুরু করার আগে জেনে নেয়া ভালো যে ইন্টার্নশিপ থেকে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়োগ হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু। যেসব প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যৎ নিয়োগের ক্ষেত্রে ইন্টার্নিদের অগ্রাধিকার দেয় অবশ্যই এমন প্রতিষ্ঠানকে বেছে নেয়া উচিত। আজকাল মোটামুটি সব সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক, মোবাইল ফোন অপারেটর, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসসহ বহু দেশীয় ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানই নিয়মিত ইন্টার্নি নিয়োগ দিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ারবিষয়ক আগ্রহ ও দক্ষতার ভিত্তিতে তাদের প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা উচিত।