‘আইবিএ স্পিরিট অব দ্য কম্পিটিশন অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’ অর্জন করেছেন প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থীরা। নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা-২০২৫-এ অংশ নিয়ে এ অ্যাওয়ার্ড পান তারা। বিশ্বের ৪৫টি দেশের ৮৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের দলের মধ্যে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের দল। এ প্রতিযোগিতায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) আদলে গঠিত কোর্ট রুমে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন, মানবাধিকার ও বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির দল তাদের দৃঢ়তা, অধ্যবসায় ও প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বার অ্যাসোসিয়েশনের এ মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটি অর্জন করেন।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী চার সদস্যবিশিষ্ট মুট কোর্ট টিমে মুটার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এলএলবি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সৈয়দ মাহিন, মো. মাহবুবুর রহমান সোহাগ, সোনালী রাজবংশী এবং দীপান্বিতা চাকমা। দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আইন ও বিচার বিভাগের প্রভাষক সাল সাবিল চৌধুরী এবং সহকারী কোচ হিসেবে ছিলেন মো. রাফি ইবনে মাসুদ।

আইন ও বিচার বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. দিদারুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘এ অর্জন শুধু আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, এটি বাংলাদেশের আইন শিক্ষার জন্য একটি ঐতিহাসিক সাফল্য। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করেছে যে সঠিক দিকনির্দেশনা ও সহায়তা পেলে তারা বিশ্ব পরিমণ্ডলে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম।’ আইন স্কুলের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা আইনের মতো জটিল ও চ্যালেঞ্জিং বিষয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের প্রতিভা প্রমাণ করেছে। এ সাফল্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পথপ্রদর্শক হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল কবির বলেন, ‘প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির আইন ও বিচার বিভাগের এ অর্জন শুধু একটি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ নয়, এটি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে নেতৃত্বের সক্ষমতার প্রমাণ। এ গর্ব আমাদের সবার।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী বলেন, ‘এ অর্জন কেবল প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি সমগ্র বাংলাদেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে এক অনন্য মাইলফলক। আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করেছে যে প্রতিকূলতার মাঝেও দৃঢ় মনোবল ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের স্থান করে নেয়া সম্ভব। আমি অত্যন্ত গর্বিত এবং আশা করি, এ অর্জন ভবিষ্যতের পথকে আরো উজ্জ্বল করে তুলবে।’