শৈশবের সে রঙিন দিনগুলোর প্রতিচ্ছবি যখন আমাদের মনকে স্পর্শ করে, তখন এর সৌন্দর্য যেন আরো ধরা দেয় প্রকৃতির মাঝে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ক্যাম্পাসে গত বুধবার সেই রঙিন স্মৃতি ফিরে এল এক অসাধারণ আয়োজনের মাধ্যমে—বৈশাখী মেলা ও ঘুড়ি উৎসব। আনন্দ ও উচ্ছ্বাসে ভরা এ উৎসবের সূচনা ঘটে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বর প্রাঙ্গণে। বিভিন্ন রঙের, আকারের ঘুড়ি তারার মতো আকাশে উঠতে শুরু করে। লাল, নীল, হলুদ, সবুজ—প্রতিটির ডানা যেন স্বপ্নের নীড়ে ফিরে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানায়। শিশুসুলভ আনন্দে ভরে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস, যেখানে শিক্ষার্থী থেকে শিক্ষক—প্রতিটি চোখ ভরে ওঠে রঙিন আকাশের দিকে।

ঘুড়ি ওড়ানোর এ উৎসবে চারদিকে ভেসে আসে শৈশবের দুরন্তপনা, স্মৃতির ঝংকার। কেউ প্রথমবারের মতো হাতে তুলেছেন নিজের মনমতো ঘুড়ি, কেউ আবার আবেগের সঙ্গে আঁকড়ে ধরেছেন শৈশবের সেই স্বর্গীয় মুহূর্ত। আকাশে উড়িয়ে দিচ্ছেন কল্পনার পাখা। সুন্দর এ মুহূর্তগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ পরিণত হয়েছিল এক গ্রামীণ মেলায়। তালপাতার পাখা, রঙিন মুখোশ আর নানা ঐতিহ্যবাহী উপকরণের ছড়াছড়ি ছিল এখানে। স্থানীয় নানা রকম মুখরোচক খাবার এবং দেশীয় পণ্যগুলো মন কেড়ে নেয় দর্শনার্থীদের। প্রতিটি স্টলে তুলে ধরা হয় বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির চিত্র।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মৃত্যুঞ্জয় রায় তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘ইট-পাথরের নগরীতে থাকতে থাকতে যখন আমরা গ্রামের শৈশবকে ভুলতে বসেছিলাম, তখন এ আয়োজন আমাদের সেই আনন্দময় দিনগুলোতে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। গ্রামীণ সমাজ ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরার এ উদ্যোগ সত্যিই চমৎকার।’ পদাতিকের সভাপতি ভূমিকা সরকার বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মাঝে বাঙালি ঐতিহ্যের প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা বিশ্বাস করি, এ ধরনের কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংস্কৃতি চর্চা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’