পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং—এ দুটি শব্দ যেমন সম্ভাবনার, তেমনি বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি ও গবেষণার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং প্রকৌশল (পিএমই) বিভাগ এ সম্ভাবনাকে বাস্তব রূপ দিয়েছে। মাত্র এক দশকের কম সময়ের মধ্যে এ বিভাগ থেকে ৭০ জনের বেশি শিক্ষার্থী অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ স্কলারশিপ অর্জন করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় নিয়োজিত। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা স্নাতকোত্তর, পিএইচডি ও গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এ অসাধারণ সাফল্য পিএমই বিভাগের একাডেমিক মান, গবেষণামুখী শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের মেধা-পরিশ্রমেরই প্রতিফলন। বিশ্বব্যাপী শিক্ষাঙ্গনে চুয়েটের পিএমই বিভাগের এ অবস্থান এখন অনেকটা ‘ব্র্যান্ড’ হয়ে উঠেছে।
চুয়েট থেকে স্নাতক শেষে মোহাম্মদ ওমর শহীদ যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূ-বিজ্ঞানে পিএইচডি করছেন। ড. হারুন উর রশিদ লুইজিয়ানা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পেট্রোলিয়াম প্রকৌশলে ডিগ্রি অর্জন করেছেন। একই প্রতিষ্ঠান থেকে মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন ও মোহাম্মদ নাহিন মাহমুদ সিস্টেম প্রকৌশলে পিএইচডি ডিগ্রি নিচ্ছেন। নাভিদ ইউসুফ পেট্রোলিয়াম প্রকৌশল ও তথ্যবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন, আর শামসুল হক আর্থ অ্যান্ড এনার্জি সায়েন্সেসে পিএইচডি করছেন। খনি প্রকৌশলে দূর্জয় বৈদ্য কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি প্রোগ্রামে যুক্ত আছেন। মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম জার্মানির টেকনিশে বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণায় নিয়োজিত। জেবিন ফাউজিয়া, শাহাদাত হোসাইন, দানিশ মুদাচ্ছের, আবু শাহরিয়া ও শিহাব উদ্দিন জার্মানির মাগডেবার্গের অটো ফন গেরিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন ও জ্বালানি প্রকৌশলে স্নাতকোত্তর করছেন।
মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি টেকনোলজি পেট্রোনাসে মোহাম্মদ মাহমুদুল ইসলাম পেট্রোলিয়াম ভূ-বিজ্ঞানে, রুবাইয়া তাসনিম, আলমগীর পাঠান, ফাহিম হাবিব ও ইমরান হোসাইন পেট্রোলিয়াম প্রকৌশলে স্নাতকোত্তরে অধ্যয়ন করছেন। অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজয় কুমার পাল পেশাগত প্রকৌশলে এবং সৈকত দত্ত মাইনিং প্রকৌশলে স্নাতকোত্তর করছেন। জার্মানির ফ্রেডরিক ও আলেকজান্ডার বিশ্ববিদ্যালয়ে মোহাম্মদ মিজানুর রহমান গণনাধর্মী প্রকৌশলে ও মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে মোহাম্মদ রাশিক মজিদ ও মুশফিকা রহমান কথা পেট্রোলিয়াম প্রকৌশলে পিএইচডি করছেন।
এভাবেই কানাডা, নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ায় ছড়িয়ে আছে চুয়েটের পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং বিভাগের অসংখ্য প্রাক্তন শিক্ষার্থী, যারা বিশ্বের নামি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় নিযুক্ত।
পেএমই বিভাগের ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী রাকিব আহমেদ বলেন, ‘যদি যুক্তিসংগতভাবে ভাবি, চুয়েটের পিএমই বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়ার প্রবণতা অন্যান্য বিভাগের তুলনায় অনেক বেশি। আমাদের অনেক সিনিয়র শেভরন, শেল এবং অন্য বড় কোম্পানিতে চাকরি করছেন। কেউ কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে শতভাগ স্কলারশিপে পড়ছেন। যদি বিভাগের সঙ্গে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক থাকত, তবে প্রক্রিয়াগুলো হয়তো আরো সহজ হতো।’
চুয়েট পিএমই বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের ৭০ জনের বেশি গ্র্যাজুয়েট যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ইউরোপের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমিয়েছেন। অনেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষে ইভ্যালুয়েশন মাইনিংয়ের মতো নামকরা কোম্পানিতে চাকরি করছেন। দেশের সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বাপেক্স, পেট্রোবাংলা, কোল মাইনিং কোম্পানি, এলপিজি, এলএনজি কোম্পানিতে আমাদের অ্যালামনাইরা কর্মরত। বর্তমানে আমরা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের অধীনে ইস্টার্ন রিফাইনারি, স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি, বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং, সুপার পেট্রো, মবিল যমুনা, কেজিডিসিএল, পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ইত্যাদি কোম্পানিতে ভিজিট সম্পন্ন করেছি এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সম্পর্ক জোরদারকরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।’










