ছোট ছোট স্টলে নিজ নিজ উদ্ভাবন নিয়ে হাজির হয়েছে একদল শিক্ষার্থী। দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যয়নরত তারা। সমাজের জন্য প্রয়োজনীয় সেসব আবিষ্কার দেখতে হাজির হয়েছেন বিজ্ঞানপ্রেমী তরুণ-তরুণীরা। বলছিলাম বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান আড্ডা আয়োজিত ‘প্রথম এসএন বোস ন্যাশনাল সায়েন্স ফেস্টিভ্যাল-২০২৫’-এর কথা। এ আয়োজনকে ঘিরে ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীদের পদচারণায় গত দুদিন মুখরিত ছিল দেশের প্রাচীনতম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী কার্জন হল প্রাঙ্গণ।
তরুণ শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্কতা, উদ্ভাবনী শক্তি ও সৃজনশীলতা বিকাশের লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো ‘বিজ্ঞান আড্ডা’র সঙ্গে যুক্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ আয়োজন করেন। বৃহৎ এ উৎসব আয়োজনে সহায়তা করেছে ঢাকা ইউনিভার্সিটি সায়েন্স সোসাইটি, ঢাকা ইউনিভার্সিটি রিসার্চ সোসাইটি, ঢাকা ইউনিভার্সিটি চেজ ক্লাব ও ঢাকা ইউনিভার্সিটি কুইজ সোসাইটি। তরুণদের মাঝে বিজ্ঞানচর্চার মানসিকতা গড়ে তুলতে ও বিজ্ঞানে সুফলকে ছড়িয়ে দিতে এ আয়োজন বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান আড্ডার সহপ্রতিষ্ঠাতা উমামা ফাতিমা। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘উৎসবের মাধ্যমে বিজ্ঞান চর্চার এক প্রাণবন্ত প্লাটফর্ম তৈরি করার চেষ্টা করব আমরা। যে প্লাটফর্মে তরুণ-তরুণীরা নিজেদের জ্ঞান, দক্ষতা ও কল্পনাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে উদ্ভাবনে আগ্রহী হবে। বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখার মধ্যে যোগসূত্র তৈরি ও একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলবে।’ সামগ্রিকভাবে বিজ্ঞানের সঙ্গে সমাজ, সংস্কৃতি ও নৈতিকতার সংযোগ ঘটানোই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য বলে তিনি জানান।

দু-দিনব্যাপী এ উৎসবে দেশের ২০টিরও অধিক স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের আট শতাধিক শিক্ষার্থী বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে তিনটি ক্যাটাগরিতে সায়েন্স অলিম্পিয়াড, স্নাতক পর্যায়ে আইটি হ্যাকাথন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সায়েন্স অলিম্পিয়াড, আইটি হ্যাকাথন প্রতিযোগিতা, উপস্থিত বক্তৃতা, পোস্টার প্রেজেন্টেশন, ইনোভেশন প্রদর্শনী, সাধারণ বিজ্ঞান কুইজ, ওপেন রেটেড দাবা প্রতিযোগিতা এবং রুবিক্স কিউবের মতো প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ আটটি সেগমেন্টে বিজয়ীরা সর্বমোট ৫ লাখ টাকার প্রাইজমানি পুরস্কার পান। এর আগে ২২-২৩ মে অনলাইনে স্নাতক পর্যায়ের আইটি হ্যাকাথনের প্রাথমিক বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। পরে ২৪ মে সকাল ১০টা থেকে বাকি ইভেন্টগুলোর প্রাথমিক বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সর্বশেষ গতকাল সমাপনী অনুষ্ঠানে সশরীরে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে বিভিন্ন সংগঠনের স্টলে বিজ্ঞানভিত্তিক নিজ নিজ কার্যক্রমগুলো প্রদর্শনের পাশাপাশি বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিজ্ঞানবিষয়ক টক শো অনুষ্ঠিত হয়। এসব টক শোতে ক্রিপ্টোকারেন্সি, জিওপলিটিক্যাল অ্যালায়েন্স ও সায়েন্সভিত্তিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জ্ঞানগম্ভীর আলোচনা করা হয়।
সন্ধ্যায় সমাপনী অনুষ্ঠানে ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনের জন্য শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দ্বারা আয়োজিত প্রথম বিজ্ঞান ফেস্টিভ্যাল এটি। বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করা দেশের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এতে অংশ নিয়েছে। আমাদের সন্তানদের বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী করতে এ ধরনের আয়োজন বেশি হওয়া দরকার। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এ মুহূর্তে দেশের জন্য বিজ্ঞানমুখী যাত্রা অত্যন্ত প্রয়োজন।’ এ সময় বিজ্ঞানী সত্যেন বসের চর্চা বাড়ানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এ সময় অন্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন সায়েন্সেসের পরিচালক অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিহির লাল সাহা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোসাদ্দেক হোসেন কামাল প্রমুখ।
এর আগে গত শনিবার দুই দিনব্যাপী এ উৎসবের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা। সেদিন বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞানের এ যুগে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধনের ওপর আমাদের জোর দিতে হবে।’
এছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস, এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিটি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুর রব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী মতিন উদ্দিন আহমেদ এবং জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. এনামুল হক বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।










