চাহিদার তুলনায় দক্ষ জনবল সরবরাহ অনেক কম

মো. আনিসুজ্জামান
সহকারী মহাব্যবস্থাপক, ক্লাউড অপারেশন,
মেঘনাক্লাউড (বাংলাদেশ ডাটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেড)
সাইবার সিকিউরিটি একটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ও গতিশীল বিষয়, যেটি দিনে দিনে আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রযুক্তির প্রসার যত বাড়ছে, সাইবার ঝুঁকিও তত বাড়ছে—এ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের প্রয়োজনও বাড়ছে। বর্তমানে এটি এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে দক্ষ জনবল সরবরাহ চাহিদার তুলনায় অনেক কম। সরকারি-বেসরকারি খাত, ব্যাংক-বীমা, স্বাস্থ্যসেবা, টেলিকম, এমনকি ই-কমার্স বা স্টার্টআপ সেক্টরেও এ দক্ষতার চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশে যেমন চাহিদা বাড়ছে, বিদেশেও এটি অত্যন্ত সমাদৃত। চাকরির সুযোগের পাশাপাশি বেতন কাঠামোও তুলনামূলকভাবে আকর্ষণীয়। এথিক্যাল হ্যাকার, এসওসি অ্যানালিস্ট, পেনটেস্টার, ক্লাউড সিকিউরিটি আর্কিটেক্ট প্রভৃতি পদে দক্ষতার ভিত্তিতে দ্রুত উন্নতি সম্ভব। এছাড়া এ খাতে ফ্রিল্যান্সিং কিংবা রিমোট ওয়ার্কের সুযোগও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।আমি স্নাতকে কম্পিউটার সায়েন্স পড়েছি। পেশাগতভাবে দীর্ঘদিন আইটি ও ক্লাউড অবকাঠামো নিয়ে কাজ করেছি, বিশেষ করে ওপেনস্ট্যাক, অটোমেশন ও নিরাপত্তাবিষয়ক নানা প্রকল্পে যুক্ত ছিলাম। এ অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে পেরেছি, সাইবার সিকিউরিটি এখন আর আলাদা কোনো বিভাগ নয়, এটি সব সিস্টেমের মেরুদণ্ড হয়ে উঠেছে। তাই মাস্টার্স পর্যায়ে সাইবার সিকিউরিটি বেছে নিই, যাতে আমার আগের অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিরাপত্তাজনিত দিকগুলো গভীরভাবে একীভূত করতে পারি। যারা সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ড ছাড়া এ বিষয়টি নিতে চান, তাদের জন্য কিছু বাড়তি চ্যালেঞ্জ থাকতে পারে বিশেষ করে প্রোগ্রামিং, নেটওয়ার্কিং, অপারেটিং সিস্টেমের মৌলিক ধারণা না থাকা। তবে আগ্রহ থাকলে ধাপে ধাপে শিখে নেয়া সম্ভব। সাইবার সিকিউরিটি এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে অভিজ্ঞতা আর বাস্তব দক্ষতার মূল্য সবচেয়ে বেশি। যারা এরই মধ্যে আইটি, নেটওয়ার্কিং বা সিস্টেম অ্যাডমিন হিসেবে কাজ করছেন, তাদের জন্য এ খাতে আসাটা অনেকটাই স্বাভাবিক অগ্রগতি।
নন-সায়েন্স স্টুডেন্টও পরিশ্রম করলে সফল হতে পারে

মো. মমিনুল ইসলাম, সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, ওভিএস হং কং সোর্সিং লিমিটেড (বাংলাদেশ লিয়াজোঁ অফিস)
বিশ্বব্যাপী দ্রুত বর্ধনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্র সাইবার সিকিউরিটি। বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারে উচ্চ চাহিদা রয়েছে। ব্যাংকিং, টেলিকম, সরকারি, গার্মেন্টস ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে সুযোগ বেশি। দক্ষতার ভিত্তিতে বেতন ও সুযোগ-সুবিধা অন্যান্য আইটি ক্ষেত্রের তুলনায় ভালো। শুধু সায়েন্স স্টুডেন্ট নয়, নন-সায়েন্স স্টুডেন্টও পরিশ্রম করলে সফল হতে পারে। আমার ব্যাচেলর ছিল ইনফরমেশন টেকনোলজিতে। পেশাগত জীবনে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ দেখে মাস্টার্সে সাইবার সিকিউরিটি বেছে নিয়েছি। সরাসরি ব্যাচেলর না থাকায় মৌলিক বিষয়গুলো ধরতে সময় লেগেছে। নেটওয়ার্ক, ক্রিপ্টোগ্রাফি, ডিজিটাল ফরেনসিকস—এসব নতুনভাবে শিখতে হয়েছে। নতুনদের জন্য পরামর্শ হলো¬ বেসিক নেটওয়ার্ক, অপারেটিং সিস্টেম, প্রোগ্রামিং শিখুন। প্র্যাকটিস প্লাটফর্ম (TryHackMe, Hack The Box, Qwiklabs) ব্যবহার করুন। নেটওয়ার্ক, ক্লাউড, ইনসিডেন্ট রেসপন্স ইত্যাদির মতো নির্দিষ্ট ডোমেইনে দক্ষতা তৈরি করুন। Security+, CEH, CISSP, ক্লাউড সিকিউরিটি থেকে সার্টিফিকেশন নিন।এ ক্ষেত্র প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে, তাই ক্রমাগত শেখা চালিয়ে যান।
সবাই জেনে, না জেনে সাইবার জগতের সঙ্গে যুক্ত

অভিজীৎ সাহা
নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার, নেক্সটেক লিমিটেড
পড়ার বিষয় হিসেবে সাইবার সিকিউরিটি অনেক দরকারি। যদিও বর্তমানে এর সঠিক মূল্যায়ন হয় না। তার পরও আগামী সময়ে এর ব্যবহার অনেক বেড়ে যাবে এবং চাহিদাও বেড়ে যাবে। আমি মনে করি সবাই জানেন যে যেকোনো মাঝারি বা বড় প্রতিষ্ঠানে নেটওয়ার্ক প্রকৌশলী ছাড়াও সিস্টেম প্রকৌশলী বা সিস্টেম অ্যানালিস্ট থাকেন, যারা মূলত নেটওয়ার্ক, ডিভাইসের পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করেন। সেসব পদে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য হলেও এ বিষয়টি নিয়ে পড়া জরুরি। বলতে গেলে বর্তমানে সবাই জেনে বা না জেনে সাইবার জগতের সঙ্গে যুক্ত থাকে, এর উপকারী বা ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জানা সবার দরকার। এজন্য বলা যায়, সায়েন্সের স্টুডেন্ট হলে এ বিষয় পড়তে পারবে তা নয়, সবার পড়ার সুযোগ থাকা উচিত। মাস্টার্স কোর্সের আগে স্নাতকে কম্পিউটার সায়েন্স ছিল, যেহেতু আমি এখন নেটওয়ার্ক নিয়ে কাজ করছি, তাই এ বিষয়ে পড়াটা আমার জন্য উপকারী। সত্যি বলতে সাইবার সিকিউরিটি বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বর্তমানের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। তাই কেবল তাত্ত্বিক নয়, ব্যবহারিক বিষয়গুলো যুক্ত করা খুব দরকারি। আর এ বিষয়টি নিয়ে কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। এছাড়া স্নাতকে এ বিষয়ে তেমনভাবে শেখার বা জানার সুযোগ ছিল না। সামান্য ধারণা পাওয়া গিয়েছিল, তাই আমি মনে করি স্নাতকে সাইবার বিষয়ে একটি বিষয় যুক্ত করা গেলে তা পরবর্তী সময়ে ভালো কাজে আসবে।










