পুঁথিগত বিদ্যাকে পেছনে ফেলে উন্নত দেশগুলো দক্ষতা ও প্রযুক্তির জোরে এগিয়ে যাচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থীই ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে একজন সফল মানুষ হিসেবে তৈরি করতে প্রথাগত শিক্ষা ছেড়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের স্বপ্ন দেখে। বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থীই উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে আগ্রহী। আপনি যদি আপনার শিক্ষাজীবনকে আধুনিক ও প্রায়োগিক জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান, তবে বিদেশে উচ্চশিক্ষা হতে পারে আপনার স্বপ্ন পূরণের অন্যতম উপায়। বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিতে হলে আপনাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে। বিশ্বের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাবর্ষ সাধারণত তিনটি প্রধান সময়ে শুরু হয়। আসছে ফল সেমিস্টারে ভর্তির জন্য (সেপ্টেম্বর/অক্টোবর) আগস্ট থেকে জানুয়ারির মধ্যে আবেদন কার্যক্রম শেষ করতে হবে। বিশ্বের বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয় এ সময়ে ভর্তি নেয়। কোর্সের সংখ্যা বেশি থাকে। স্কলারশিপ ও ফান্ডিং পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নেয়া জরুরি। এর মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো: একাডেমিক প্রস্তুতি ও এক্সট্রা কারিকুলার কার্যক্রম, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা যাচাই, সিজিপিএ, রিসার্চ পেপার এবং রিকমেন্ডেশন লেটার ও অভিজ্ঞতা। একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি এক্সট্রা কারিকুলার কার্যক্রম যেমন বিভিন্ন ভলান্টিয়ারিং বা সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশ ভ্রমণও শিক্ষার্থীদের উদার ও বিনয়ী হতে সাহায্য করে এবং উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এটি বাড়তি সুবিধা দেয়। বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ভাষাগত দক্ষতা যাচাই অপরিহার্য। আপনি যে দেশে যেতে চান, সেই ভাষার দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে আপনি পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপ বা ভিসার জন্য নির্বাচিত হবেন। ইউরোপ, আমেরিকা বা কানাডায় যাওয়ার জন্য আইইএলটিএস, জিআরই, জিম্যাট, টোফেল এর মতো বিশ্বস্বীকৃত ইংরেজি দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় ভালো স্কোর অর্জন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো স্কলারশিপ পেতে হলে আপনার সিজিপিএ অন্তত ৩.৫০ রাখার চেষ্টা করুন, কারণ ভালো ফলাফলের সঙ্গে স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়। স্নাতকোত্তর ডিগ্রির জন্য রিসার্চ পেপার পাবলিশ করা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এটি আপনার কম সিজিপিএ থাকলেও ভালোমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ পেতে সাহায্য করতে পারে। আজকাল ইন্টারনেট ও ইউটিউবে রিসার্চ পেপার সংক্রান্ত অনেক ভিডিও পাওয়া যায়, যা আপনাকে নিজেই পেপার প্রকাশ করতে সাহায্য করবে। বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে লেটার অব রিকমেন্ডেশন বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আপনার শিক্ষক, মেন্টর বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার কাছ থেকে এটি নিতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়জীবন থেকেই বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করুন, যা বিদেশে চাকরির সুযোগ পেতে সাহায্য করবে।

স্কলারশিপের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বাছাইয়ের আগে আপনাকে কোন দেশে যাবেন, সে সম্পর্কে ভাবতে হবে। দেশ নির্বাচনের পর শহর নির্বাচন করতে হবে, যেখানে শিক্ষাব্যবস্থা ও জীবনযাত্রার খরচ সম্পর্কে হিসাব-পরিসংখ্যান যাচাই করা প্রয়োজন। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ, কানাডা ও মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলো শিক্ষা ও আধুনিক জীবনমানের দিক থেকে এগিয়ে। দেশ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আপনাকে পড়াশোনার খরচ, টিউশন ফি, আবাসন ফি ইত্যাদি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। পাশাপাশি আপনি কোন বিষয়ে পড়তে চাচ্ছেন এবং সেই বিষয়ের চাহিদা দেশ বা বিদেশে কেমন, তা বিবেচনা করে কাঙ্ক্ষিত বিষয় বেছে নিতে হবে। ডিমান্ডেবল সাবজেক্টে পড়াশোনা করলে চাকরির সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনের ক্ষেত্রেও কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করতে হবে। আপনার পছন্দের বিষয়টি সেখানে আছে কিনা। পড়াশোনার মান উন্নত কিনা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের মান কেমন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থান। কোর্সের মেয়াদ ও টিউশন ফি। স্কলারশিপের সুযোগ। আবাসন ব্যবস্থা ও ভর্তি যোগ্যতা। তবে একটি মাত্র দেশকে টার্গেট না করে, আপনার সক্ষমতা অনুযায়ী বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা উচিত।

বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আপনাকে প্রথম থেকেই পূর্বপ্রস্তুতি নিতে হবে। স্কলারশিপের জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বেশকিছু কাগজপত্র তৈরি করতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব ফরম ডাউনলোড করে পূরণ করে নিন। শিক্ষাজীবনের সব ডকুমেন্ট সত্যায়িত করে জমা দিতে হবে। একটি বৈধ পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের স্ক্যান কপি জমা দিতে হবে। পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ছয় মাস থাকতে হবে। ইংরেজি দক্ষতা পরীক্ষার স্কোরের সত্যায়িত মার্কশিট। স্টেটমেন্ট অব পারপাস আপনার ভালো স্কলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, বিশেষ করে যদি আপনার একাডেমিক রেজাল্ট বা ইংরেজি দক্ষতা স্কোর তেমন ভালো না হয়। পরিচিত ও যোগ্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে রিকমেন্ডেশন লেটার নিন এবং আপনার ব্যক্তিগত ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে একটি ভালো সিভি তৈরি করুন। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে আংশিক স্কলারশিপের জন্য পিতা-মাতার ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাইতে পারে। শারীরিকভাবে ফিট কিনা তা যাচাইয়ের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রমাণপত্র স্ক্যান করে পাঠাতে হবে। প্রকাশিত আর্টিকেল বা জার্নাল লিঙ্ক থাকলে স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।