বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘কার্বন ফেস্ট ২০২৫’-এ পোস্টার প্রেজেন্টেশনে জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মঞ্জুরুল ইসলাম। সম্প্রতি গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স ক্লাবের আয়োজনে গাজীপুরের সিসিডিবি ক্লাইমেট সেন্টারে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা এ আয়োজনে অংশ নেন।

‘ফুটপ্রিন্টস টু ব্লুপ্রিন্টস: টেকসই কৃষি ও কার্বন নিউট্রালিটির পথ’ শীর্ষক পোস্টারে মঞ্জুরুল জলবায়ুবান্ধব কৃষি ও কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে উদ্ভাবনী সমাধান উপস্থাপন করেন, যা বিচারকদের নজর কাড়ে। প্রজেক্টে তিনি তুলে ধরেন কীভাবে গ্রামীণ কৃষি ব্যবস্থায় কম কার্বন প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করা যায়, কীভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার কৃষি উৎপাদনে টেকসই পরিবর্তন আনতে পারে এবং কীভাবে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে পরিবেশগত সচেতনতা গড়ে তোলা যায়। পাশাপাশি মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের মাধ্যমে কার্বন ধারণক্ষমতা বাড়ানোর কৌশলও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রকল্পটির অন্যতম বিশেষত্ব ছিল এর বাস্তবতা। এটি কেবল তাত্ত্বিক চিন্তাধারা নয়, বরং বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় একটি প্রয়োগযোগ্য যা প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও সমাজের বাস্তব দিকগুলোর সমন্বয়ে গঠিত। বিচারকরা মনে করেন, প্রজেক্টটি ভবিষ্যতের সবুজ উন্নয়নের একটি শক্তিশালী নীলনকশা, যা বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশে তরুণদের চিন্তাশক্তি ও উদ্ভাবনের গভীরতা তুলে ধরে।

চ্যাম্পিয়ন মঞ্জুরুল ইসলাম অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রথম কার্বন ফেস্টে জাতীয় পর্যায়ের স্বীকৃতি পাওয়া আমার জন্য গর্বের। মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞানের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় টেকসই সমাধান খোঁজার চেষ্টাই আমার কাজের মূল প্রেরণা। এগ্রিডিকার্বাথনের মাধ্যমে আমি সম্মানিত ব্যক্তিদের সঙ্গে সংলাপে অংশ নিতে পেরেছি, যা আমার জন্য ছিল দারুণ এক অভিজ্ঞতা।’

‘এগ্রিডিকার্বাথন ২০২৫’ শিরোনামের এ আয়োজনে পোস্টার উপস্থাপনার পাশাপাশি আয়োজন করা হয় ভিডিও ডকুমেন্টারি, কার্বন কোয়েস্টসহ জলবায়ুবিষয়ক আরো নানা প্রতিযোগিতা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিসিডিবির নির্বাহী পরিচালক জুলিয়েট কেয়া মালাকার এবং এনভোলিড লিমিটেডের সিইও মোরশেদুল বারী।

আয়োজকরা জানান, তরুণ প্রজন্মকে জলবায়ু সচেতন করে গড়ে তুলতেই এ আয়োজন, যা আগামীতে পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।