চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম সংলগ্ন এলাকায় চলছে উৎসব। আইসক্রিমের কাঠি দিয়ে তৈরি সেতুর মডেল, একের পর এক ওজন ঝোলানো হচ্ছে তাতে। দর্শকদের দৃষ্টি সেদিকেই। কোন দল কতটা ভার সহ্য করতে পারবে, সেই উত্তেজনা ছুঁয়ে যাচ্ছে সবার মধ্যে। এমন চিত্তাকর্ষক দৃশ্যের মধ্য দিয়েই চুয়েটে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় পর্যায়ের পুরকৌশল উৎসব ‘দ্য ওডিসি-২০২৫’।
আমেরিকান সোসাইটি অব সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্সের চুয়েট শাখা আয়োজিত দুদিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী অংশ নেন। প্রতিযোগিতার চারটি মূল সেগমেন্ট—অটোক্যাড কম্পিটিশন, পোস্টার প্রেজেন্টেশন, কেস স্টাডি ও ট্রাস কম্পিটিশন—এ তরুণ সিভিল প্রকৌশলীদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতার অনন্য প্রদর্শনী হয়। অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহে চুয়েটের অডিটোরিয়াম যেন হয়েছিল উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু।
প্রথম দিনে পোস্টার প্রেজেন্টেশনে শিক্ষার্থীরা তাদের গবেষণা তুলে ধরেন, কেস স্টাডি সেগমেন্টে উপস্থাপন করেন বাস্তবভিত্তিক সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান। পাশাপাশি অটোক্যাড প্রতিযোগিতায় ডিজাইন স্কিলে মুগ্ধ করেন অনেকেই। দ্বিতীয় দিন ছিল ট্রাস কম্পিটিশন—যেখানে কাঠি দিয়ে তৈরি সেতুর আদলে ওজন পরীক্ষার চিত্র সবার নজর কাড়ে।
ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চিটাগং (ইউএসটিসি) থেকে আসা শিক্ষার্থী শাহিদা চৌধুরী প্রিয়া বলেন, ‘এই প্রথম আমি অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিলাম। দ্য ওডিসি-২০২৫ ছিল খুবই প্রাণবন্ত একটি অভিজ্ঞতা।’ সংগঠনটির অনুষদ উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আয়েশা আখতার বলেন, ‘প্রথমবারের মতো এ আয়োজন চারটি ধাপে পরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন হলো। গত কয়েক মাস আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করেছি একটি মানসম্পন্ন ও শিক্ষণীয় প্রতিযোগিতা উপহার দিতে।’ দুদিনব্যাপী এ উৎসবে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি ছিল একটি টেকনিক্যাল সেমিনার, যেখানে পুরকৌশলের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়। সবশেষে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে জমজমাট এ উৎসবের পর্দা নামে।
ট্রাস প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয় ডুয়েটের দল দ্য কংক্রিট ট্রায়ো, কেস স্টাডি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয় চুয়েটের দল নেক্সাস, অটোক্যাড প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয় বুয়েট ক্যাড ফোর্সেস এবং পোস্টার প্রেজেন্টেশন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয় চুয়েটের দল বায়োচার। কেস স্টাডিতে বিজয়ী ‘নেক্সাস’-এর সদস্য তৌহিদুল ইসলাম ইমন বলেন, ‘প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই আয়োজকদের এত সুন্দর আয়োজনের জন্য এবং অবশ্যই আমার টিমমেটদেরও ধন্যবাদ ও অভিনন্দন। এ দুদিনব্যাপী আয়োজনে চুয়েটে বেশ উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল। আমরা আশা রাখছি সামনে চুয়েটে এমন আরো ন্যাশনাল ইভেন্ট হোক। এতে স্টুডেন্টরাও আরো উৎসাহিত হবে।










