বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ৩৪ বছরে পদার্পণ করেছে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি)। ১৯৯১ সালে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. এম আলিমউল্যা মিয়ান দেশের প্রতিটি গ্রাম থেকে অন্তত একজন পেশাদার স্নাতক তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।

ঢাকার ২০ বিঘার সবুজ ক্যাম্পাসে ছয়টি অনুষদের অধীনে ১৪টি প্রোগ্রাম পরিচালিত হচ্ছে। এখানে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছে। এশিয়া ও আফ্রিকার ১২টি দেশের শিক্ষার্থীরা এই ক্যাম্পাসে পড়াশোনা করছে। প্রায় ৩০০ জন শিক্ষক, যাদের মধ্যে ৯০ জনেরও বেশি পিএইচডি ডিগ্রিধারী, শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে গড়ে তুলছেন।

আইইউবিএটির গ্র্যাজুয়েটরা তিন দশক ধরে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। উল্লেখযোগ্য প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন আমেরিকায় ইন্টেলে কর্মরত মাহামুদুল হাসান, ইউনিলিভারের হেড অব আইটি ফয়সাল মাহমুদ, গ্রামীণফোনের পরিচালক শাওন আজাদ, ব্র্যাক ব্যাংকের রিটেইল ব্যাংকিং প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম রনি, নাসার গবেষক সাদিয়া মোস্তফা এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণকালীন গবেষণা বৃত্তিপ্রাপ্ত মহাম্মদ আলী। দেশের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আইইউবিএটির স্নাতকেরা শীর্ষস্থানীয় পদে কর্মরত রয়েছেন।

আইইউবিএটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে ভালো অবস্থান অর্জন করেছে। কিউএস র‍্যাংকিং অনুসারে বিশ্বে ১৪০০তম, এশিয়ায় ৭০১-৭৫০তম এবং দক্ষিণ এশিয়ায় ২১৯তম অবস্থানে রয়েছে। ইউআই গ্রিন মেট্রিক ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং ২০২৪ অনুসারে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিতীয় এবং বিশ্বে ২৪১তম। টাইমস হায়ার এডুকেশন ইমপ্যাক্ট র‍্যাংকিং ২০২৪ অনুসারে এর অবস্থান ৬০১-৯০০-এর মধ্যে। শিমাগো ইনস্টিটিউশনস র‍্যাংকিং ২০২২ অনুযায়ী আইইউবিএটি বাংলাদেশে দ্বিতীয় এবং বিশ্বে ৭৩৫তম স্থানে রয়েছে।

আইইউবিএটির মিয়ান রিসার্চ ইনস্টিটিউট কৃষি, প্রকৌশল, পরিবেশ, জলবায়ু এবং টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা পরিচালনা করছে।

২০২৪ সালে আইইউবিএটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। ১১৩টি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তাদের সমঝোতা চুক্তি রয়েছে, যা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিনিময় এবং গবেষণার সুযোগ প্রদান করে।

বিদেশী শিক্ষার্থীরাও আইইউবিএটির পড়াশোনার পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্ট। এখানে ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়ার ফলে তারা সহজে পড়াশোনা করতে পারে। এখানকার শিক্ষক ও কর্মচারীরা তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে থাকেন।

বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে বিশেষ বৃত্তি ও আবাসনের ব্যবস্থা। বিশ্বের ১২টি দেশের শিক্ষার্থীরা এখানে অধ্যয়ন করছে।

আইইউবিএটির আওতায় দেশের ৫৫০ থানার মধ্যে ৫৪৪ থানার শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন। প্রতিটি গ্রামে উচ্চশিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। “অ্যান এনভায়রনমেন্ট ডিজাইনড ফর লার্নিং” স্লোগান নিয়ে শিক্ষার্থীদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ৩৪ বছরের সফল যাত্রায় আইইউবিএটি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।