বাতাসে ফুলের সমীরণ জানান দিচ্ছে বসন্তের আগমনী বার্তা। শীতের আড়মোড়া কেটে প্রকৃতি সতেজ হতে শুরু করেছে। সকালের কুয়াশায় আভাস, যাওয়ার সময় এসেছে। ষড়ঋতুর বৈচিত্র্যময় এ দেশে দরজায় কড়া নাড়ছে ঋতুরাজ। নৈসর্গিক সৌন্দর্যের ক্যাম্পাস বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়েও লেগেছে বসন্তের হাওয়া। ফুলে ফুলে সেজেছে পুরো ক্যাম্পাস। রঙ-বেরঙের ফুল আর পাখির কলতান মনে করিয়ে দেয় সেই গান—আকাশে বহিছে প্রেম, নয়নে লাগিছে নেশা, কারা যে ডাকিলো পিছে বসন্ত এসে গেছে।

বসন্ত উপলক্ষে রঙ-বেরঙের ফুলে রঙিন হয়েছে ববি ক্যাম্পাস। লাল-সবুজ-হলুদ-কমলা-বেগুনি নানা রঙ ঝিকিমিকি করছে চারদিক। প্রজাপতিও রঙিন ডানা নিয়ে উড়ে বেড়াচ্ছে এদিক-ওদিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোয় ফোটা বাহারি ফুলের মেলা শিক্ষার্থী-দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের পাশে, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ছাত্রী হলের রাস্তার পাশে, হতাশা চত্বর, প্রীতিলতা চত্বর, শিক্ষক ডরমিটরি, কাপল রোডে দেখা মেলে এ অপরূপ পলাশ, গাঁদা, রক্ত গাঁদাসহ নানা সৌন্দর্য ফুলের।

25

আসে বসন্ত ফুল বনে, সাজে বনভূমি সুন্দরী/চরণে পায়লা রুমুঝুমু, মধুপ উঠিছে গুঞ্জরী’ পুষ্পিত সৌরভে এভাবেই বসন্তের আগমনী বার্তা দেখা দেয় প্রকৃতিতে। তাই তো প্রকৃতি এখন মেতে উঠেছে রঙ ও রূপে নিজেকে সাজাতে। বসন্ত নিয়ে বাঙালির উন্মাদনা চিরকালের। এ উন্মাদনায় পিছিয়ে নেই গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। বাগানে থরে থরে ফুটে আছে গাঁদা, রক্ত গাঁদা, পলাশ, গোলাপ, মোরগ ঝুঁটিসহ হরেক রকম প্রজাতির ফুল। বিশেষ করে লাইব্রেরির সামনে, হল চত্বর এবং জয় বাংলা চত্বর থেকে মেইন গেট পর্যন্ত ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ রাসেল হল প্রাঙ্গণ, উপাচার্য বাসভবনেও হরেক রকম জাতের ফুল তাদের সৌরভে মাতিয়ে রেখেছে। নজরকাড়া, নয়নাভিরাম সে সৌন্দর্য, যা শিক্ষার্থীদের মুগ্ধ করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি ও জেনেটিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বসন্ত মানেই নতুন প্রাণের ছোঁয়া, বসন্ত বরণ উৎসব বাঙালির সম্প্রীতিরই একটি অংশ। আমরা প্রত্যাশা করি, বসন্তের আগমনে যেমন প্রকৃতি তার সব রুক্ষতা ভুলে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে, তেমনি আমরাও আমাদের সব দুঃখ ও হতাশা ভুলে নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাব।’

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের ক্যাম্পাস চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও ফুলে ফুলে সেজেছে পুরো ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সুন্দর জায়গা বোটানিক্যাল গার্ডেন। এবারো ঋতুরাজকে অভ্যর্থনা জানাতে ফুটেছে গোলাপ, গাঁদা, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, কসমস, ক্যালোন্ডুলাসহ হরেক রকমের ফুল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী তাহিয়া আনজুম তিসা বলেন, ‘চবি ক্যাম্পাস নিসর্গের আধার। প্রকৃতি বরাবরের মতোই আমাদের মন ও মননে শান্ত নীরবতা বিলিয়ে দিতে পছন্দ করে। ফুল প্রকৃতির একটি বিশেষ উপাদান, এর মাধ্যমেও আমরা উপলব্ধি করি বসন্ত আবারো এসেছে।’