ড. তাহমিনা ফয়েজ। ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) ফার্মেসি বিভাগের প্রধান। তিনি ইউনেস্কোর অধীন অর্গানাইজেশন ফর উইমেন ইন সায়েন্স ফর দ্য ডেভেলপিং ওয়ার্ল্ডের (ওডব্লিউএসডি) সম্মানজনক ‘আরলি ক্যারিয়ার ফেলোশিপ’ পেয়েছেন। সম্প্রতি ফার্মেসি বিভাগে পড়াশোনা, গবেষণা ও ক্যারিয়ারের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তায়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শফিকুল ইসলাম
প্রতি বছর নারীবিজ্ঞানীদের ওডব্লিউএসডি ফেলোশিপ দেয়। গত বছর সম্ভাবনাময় নারী গবেষক হিসেবে বাংলাদেশ থেকে আপনি এ ফেলোশিপ পেয়েছিলেন। শুরুতেই আপনার গবেষণা নিয়ে জানতে চাই।
পিএইচডিধারী গবেষকদের এ ফেলোশিপ দেয়। ফার্মাসিউটিক্যাল বায়োটেকনোলজি নিয়ে আমার গবেষণা প্রস্তাব করেছিলাম। বায়োডেগ্রেডেবল হাইড্রো জেল আবিষ্কার করব। যেটি পুড়ে যাওয়া কিংবা আলসারের ক্ষেত্রে ত্বকে যে ক্ষতি তৈরি হয় সেটি দীর্ঘদিন থাকে। এটি যাতে দ্রুত সেরে ওঠে এবং আমাদের টিস্যুগুলোর দ্রুত বৃদ্ধিতে সহায়তার জন্য জেলটি ব্যবহার হবে। নতুন চিকিৎসা হিসেবে ভবিষ্যতে হাইড্রো জেল ব্যবহার করতে পারবেন রোগীরা। আমি এটি নিয়েই গবেষণা করছি। এর মাধ্যমে ওষুধের নতুন একটি সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হবে। হাইড্রো জেলের অনেক ধরনের ব্যবহার আছে কিন্তু আমি ফোকাস করব বায়োডেগ্রেডেবল জেল। ইন্ডাস্ট্রি একাডেমিয়া কোলাবরেশনের মাধ্যমে পণ্যটি বাজারে নিয়ে আসা হবে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে গবেষণাটি শেষ হবে।
ফার্মেসি শিক্ষার প্রাথমিক দিকগুলো জানতে চাই...
সেসব শিক্ষার্থীরই ফার্মেসি শিক্ষায় আসা উচিত যাদের রসায়ন ও জীববিজ্ঞান বিষয়ে গভীর আকর্ষণ আছে। শিক্ষার্থীরা চাইলে তার ক্যারিয়ারকে সরাসরি রোগীর সঙ্গে কানেক্ট করতে পারে। ওষুধের ডিজাইন, ফর্মুলেশন, প্রস্তুত করা, কোয়লিটি নির্ণয়—সবকিছু নিয়েই পাঠ্যক্রম সাজানো হয়েছে। রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের সঙ্গে ফিজিওলজিক্যাল জ্ঞানও থাকবে শিক্ষার্থীদের। পেশাগত দিক থেকেও অনেক সম্ভাবনা রয়েছে।
একজন শিক্ষার্থী কেন বিষয় হিসেবে ফার্মেসি বেছে নেবেন?
এটি একটি গ্লোবাল প্রফেশন। শুধু বাংলাদেশেই নয়, বাংলাদেশ ছাপিয়ে বহির্বিশ্বেও অনেক সম্ভাবনা ও সুযোগ রয়েছে। দেশে পড়াশোনা করে অনেকেই বিদেশে সুনামের সঙ্গে কাজ করছে। বহুমাত্রিক জ্ঞানের কারণে চাকরির বাজারে সম্ভাবনাও অনেক, রয়েছে বহুবিধ ক্ষেত্র। কেউ চাইলে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে পারে। সেকশনে অনেক খাত রয়েছে যেমন প্রডাকশন, কোয়ালিটি কন্ট্রোল, কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স, রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট। শুধু ইন্ডাস্ট্রিতেই এতগুলো ক্ষেত্র রয়েছে। রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স, পলিসি ও মার্কেটিংয়েও অনেক কাজের সুযোগ রয়েছে। এর বাইরেও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হতে পারে। বাংলাদেশ থেকে বিফার্ম সম্পন্ন করে খুব সহজেই ফুল ফান্ড স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। মাস্টার্স ও পিএইচডি শেষ করে সেখানকার কিছু কোর্স সম্পন্ন করে বিদেশেই ক্যারিয়ার গড়া যায়। সম্ভাবনার কোনো শেষ নেই কিন্তু শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে পড়াশোনা করতে হবে। শুনেছি অনেকেই ফার্মেসিকে ‘রয়েল সাবজেক্ট’ হিসেবে অভিহিত করে থাকে।
দেশের ফার্মেসি শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে কিছু বলুন...
আমাদের দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ও সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছে। ইউআইইউতে ফার্মেসি বিভাগ চালু হয়েছে দুই বছর হয়েছে। সম্প্রতি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে এসে ফার্মেসি কাউন্সিলের সচিব বলেছেন, যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের বয়স ২০ বছর হয়েছে, ইউআইইউ দুই বছরে তাদের সমান অবস্থানে রয়েছে। আমরা সবকিছু গুছিয়ে নিয়েই বিভাগ চালু করেছি। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় যারাই এ বিভাগ চালু করেছে সবার কারিকুলাম আন্তর্জাতিক মান রক্ষা করেই তৈরি করা হয়েছে। তবে অনেক জায়গায় মানসম্মত ল্যাবরেটরির অভাব থাকতে পারে। কিন্তু এ বিষয়ে ইউআইইউ শুরু থেকেই সচেতন। আমাদের একটি পূর্ণাঙ্গ ল্যাবরেটরি রয়েছে।
ইউআইইউর ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম নিয়ে বলুন...
বি.ফার্ম প্রোগ্রামে ইউআইইউ শিক্ষার্থীদের জন্য ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিতে ইন-প্লান্ট ট্রেনিং করার সুযোগের পাশাপাশি ইউনাইটেড হাসপাতালে ফার্মেসির (নন ক্রেডিট) ওপর প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। ইউআইইউতে শিক্ষার্থীদের জন্য সুসজ্জিত অত্যাধুনিক গবেষণাগার স্থাপন করা হয়েছে। যেমন ইন-অর্গানিক অ্যান্ড ফিজিক্যাল ফার্মেসি ল্যাবরেটরি, অর্গানিক ফার্মেসি, মেডিসিনাল কেমিস্ট্রি ল্যাবরেটরি, ফার্মাকগনোসি অ্যান্ড ফাইটোকেমিস্ট্রি ল্যাবরেটরি, ফার্মাসিউটিক্যাল অ্যানালাইসিস ল্যাবরেটরি, ফার্মাসিউটিক্যাল মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবরেটরি, ফিজিওলজি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি ল্যাবরেটরি, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড সেল কালচার ল্যাবরেটরি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ইউআইইউ সর্বপ্রথম কেমিডক সিস্টেমসহ আধুনিক বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড সেল কালচার ল্যাবরেটরি স্থাপন করেছে, যা শিক্ষার্থীদের বায়োটেক ড্রাগের ওপর গবেষণা পরিচালনার সুযোগ তৈরি করবে এবং সেখানে অন্যান্য যন্ত্রপাতি, যেমন বায়োসেইফটি ক্যাবিনেট, কার্বন ডাই-অক্সাইড ইনকিউবেটর, সেন্ট্রিফিউজ মেশিন এবং অত্যাধুনিক নাইকন ফ্লুরোসেন্স মাইক্রোস্কোপ রয়েছে। এছাড়া বিশ্বমানের গবেষণা পরিচালনার জন্য সেন্ট্রাল রিসার্চ ল্যাবে রয়েছে ওয়াটার্স ব্র্যান্ডের পিডি ডিটেক্টর প্রযুক্তিসমৃদ্ধ আরপি-এইচপিএলসি, এফটি-আইআর, কার্ল ফিশার টাইট্রেটরস, ডিএনএ শনাক্তকরণের জন্য গ্র্যাডিয়েন্ট পিসিআর, প্রোটিন শনাক্তকরণের জন্য ওয়েস্টার্ন ব্লটিং সিস্টেম, বায়োকেমিস্ট্রি অ্যানালাইজার, মাইক্রোপ্লেইট রিডার, রোটারি ইভাপোরেটর ইত্যাদি।










