বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস-২০২৪ এর স্বর্ণপদকে ভূষিত হয়েছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনএসইউ) ফার্মাসিটিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক ড. হাসান মাহমুদ রেজা। জীববিজ্ঞান শিক্ষা ও গবেষণায় তাৎপর্যপূর্ণ অবদানের জন্য তাকে এ সম্মাননা দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) অধ্যাপক ড. হাসান মাহমুদ রেজা নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. হাসিনা খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ড. রেজা গত ২৮ বছর ধরে গবেষণায় যুক্ত রয়েছেন। এখন পর্যন্ত তিনি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও পর্যালোচিত বিভিন্ন জার্নালে ১৪৪টি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল (বিএমজে), ল্যানসেট, সায়েন্স, জার্নাল অব আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (জেএএমএ), সায়েন্টিফিক রিপোর্টস, বায়োমেডিসিন অ্যান্ড ফার্মাকোথেরাপি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস, প্লস ওয়ান, এবং হেলিয়ন।

তার গবেষণার মূল ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে চোখের ভ্রুণীয় বিকাশ, অ্যাডাল্ট স্টেম সেল বায়োলজি ও ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রাকৃতিক উপাদানের ফার্মাকোলজি, ফার্মাসিউটিক্যাল প্রযুক্তি, নিউরোসায়েন্স, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স এবং জনস্বাস্থ্য। ড. রেজা যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর এবং বাংলাদেশে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন।

তিনি ন্যাশনাল গাইডলাইনস ফর রেগুলেটরি অ্যাপ্রুভালস অব স্টেম সেল অ্যান্ড সেল বেইসড প্রোডাক্টস (২০২০) এর অন্যতম সম্পাদক ছিলেন। এর আগে তিনি এনএসইউ থেকে উল্লেখযোগ্য গবেষণার স্বীকৃতি হিসাবে রিসার্চার এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড (২০২২), বেস্ট রিসার্চার অ্যাওয়ার্ড (২০২১)এবং ডিন’স অ্যাওয়ার্ড (২০১৬) লাভ করেন।

ড. রেজা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগ থেকে বিএফার্ম এবং এমফার্ম ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে জাপানের নারা ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এনএআইএসটি) থেকে মনবুশো স্কলারশিপের আওতায় জীববিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি জাপানের একই প্রতিষ্ঠানের বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তিন বছর কর্মরত ছিলেন। তিনি সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর-এর অধীনে সিঙ্গাপুর আই রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এ গবেষণা বিজ্ঞানী হিসেবেও কাজ করেন এবং টিস্যু ইঞ্জিনিয়ারিং (পুনর্জনন চিকিৎসা) বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করেন।

তিনি ৬০টির বেশি মাস্টার্স থিসিস এবং ১৭০টিরও বেশি অনার্স পর্যায়ের গবেষণা প্রকল্পের তত্ত্বাবধান করেছেন। ইয়েল ইউনিভার্সিটি, স্যাম হিউস্টন স্টেট ইউনিভার্সিটি, নটিংহাম ইউনিভার্সিটি, লন্ডন ইউনিভার্সিটি (রয়্যাল হ্যালোওয়ে), এনএআইএসটি এবং দেশীয় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সঙ্গে যৌথ গবেষণা পরিচালনা করছেন। তিনি ফার্মেসি কাউন্সিল অব বাংলাদেশ (পিসিবি) সহ ১০টিরও বেশি পেশাদার/সামাজিক সংস্থার সদস্য। এর আগে, তিনি এনএসইউ-তে ফার্মাসিটিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের চেয়ারম্যান এবং হেলথ অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সেস স্কুলের ডিন হিসেবেও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।