বাংলাদেশে পরিবেশ দূষণের মাত্রা ক্রমে বেড়ে চলেছে। বিশেষত কয়েক বছর ধরে পরিবেশ দূষণের মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পরিবেশ দূষণ রোধে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে তরুণরা নানা উদ্যোগ গ্রহণ করছেন। তরুণদের এমনই একটি পরিবেশ বিষয়ক সংগঠন ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের ক্লাব এনভায়রনমেন্টাল ট্রেইলব্লেজার্স।
ক্লাবটি বিভিন্ন শিক্ষামূলক কর্মসূচি, পরিবেশ সচেতনতা বিষয়ক প্রচারণা এবং হাতে-কলমে কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্লোবাল ওয়ার্মিং, বায়ুদূষণ, জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা পরিবেশগত সংকট মোকাবেলায় শিল্প প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছে। সংগঠনটির বিশ্বাস, ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব এবং একেকটি পদক্ষেপ পরিবেশবান্ধব জীবনের চেইন রিঅ্যাকশন সৃষ্টি করবে। সংগঠনটির সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস মোহনা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষদের মধ্যে পরিবেশবিষয়ক সচেতনতা তৈরির অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তারা তাদের প্রথম ফ্ল্যাগশিপ ইভেন্ট—শেকড় আয়োজন করেন। এই ব্যতিক্রমধর্মী ইকো-ফেয়ারে শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ জেলার পরিবেশগত বৈচিত্র্য তুলে ধরেন। প্রতিটি বুথে স্থান পায় স্থানীয় উদ্ভিদ, লোকজ পরিবেশ জ্ঞান ও ঐতিহ্যবাহী উপস্থাপন। এছাড়া ক্লাবটির পক্ষ থেকে পরিবেশ দূষণের চিত্র তুলে ধরতে “থ্রু দ্য লেন্স”নামক ফটোগ্রাফি প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়। এ প্রদর্শনীতে ছবির মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ ও অবনতি তুলে ধরা হয়েছিল। এসব আয়োজনের পাশাপাশি সম্প্রতি পরিবেশ বান্ধব টেকসই উৎপাদনব্যবস্থার বিষয়ে শিক্ষার্থীরা সফর করেন ময়মনসিংহের ভালুকায় অবস্থিত ইপিলিয়ন গ্রুপের গ্রীন গার্মেন্টস এবং এনভয় টেক্সটাইলস লিমিটেড। এই সফরে শিক্ষার্থীরা জল পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন প্রক্রিয়া সরাসরি দেখে বুঝতে পারেন কীভাবে শিল্প খাতেও পরিবেশগত সচেতনতা চর্চা করা সম্ভব। সংগঠনটির পরিকল্পনা তারা এই সফর থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতার আলোকে অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও পরিবেশ বান্ধব উৎপাদনপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে উৎসাহিত করবেন। শুধুমাত্র সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডই নয় বিভিন্ন পরিবেশ বিপর্যয়ে দুর্গত মানুষদেরও পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে সংগঠনটি। গত বছর দেশের দক্ষিণাঞ্চল যখন বন্যাকবলিত হয়ে পড়ে তখন সংগঠনটির পক্ষ থেকে দুর্গত মানুষদের সহযোগিতায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেয়া হয়। ত্রাণ সংগ্রহ বুথ পরিচালনা, অর্থ, কাপড় ও খাবার সংগ্রহ এবং সরাসরি বন্যাকবলিত এলাকায় এগুলো পৌঁছে দেয়া ইত্যাদির মাধ্যমে তারা বন্যাদুর্গত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। সংগঠনটির সভাপতি মোহনা বলেন, আমাদের সংগঠন সবার জন্য উন্মুক্ত। আমরা দৃঢ় বিশ্বাস করি, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই প্রকৃত পরিবর্তন আসে, যেখানে বহুমুখী চিন্তা ও সৃজনশীল ধারণা নতুন পথ দেখায় এবং গতিশীল সমাধান সৃষ্টি করে। আমরা আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ক্যাম্পাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখিনি। আমরা শিল্পক্ষেত্র পরিদর্শন ও সমাজসেবার মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের সফল ক্যারিয়ারের জন্য উদ্বুদ্ধ করতেও কাজ করছি। আমি সবসময় মনে করি তুমি কতটা ধীরভাবে এগিয়ে যাচ্ছ এটি বিষয় নয়, এটিই গুরুত্বপূর্ণ যে তুমি থেমে যাওনি।










