অস্ট্রেলিয়া এখন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য। মানসম্মত শিক্ষা, বিশ্ব স্বীকৃত ডিগ্রি, নিরাপদ পরিবেশ, স্কলারশিপ ও খণ্ডকালীন চাকরির সুযোগ—সব মিলিয়ে দেশটি পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের বড় ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয় , অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (এএনইউ), সিডনি বিশ্ববিদ্যালয় , মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়, কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়, নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়, সিডনি। এছাড়া লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয়, ডেকিন বিশ্ববিদ্যালয়, আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অস্ট্রেলিয়ার প্রথম সারির এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সর্বাধিক চাহিদাসম্পন্ন বিষয় হলো তথ্যপ্রযুক্তি, বিজনেস অ্যানালিটিকস, ডাটা সায়েন্স, নার্সিং, ইঞ্জিনিয়ারিং, পরিবেশবিদ্যা ও স্বাস্থ্যবিজ্ঞান। সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি ও সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টেও ভালো সুযোগ রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ায় সরকারি ও বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক অসংখ্য স্কলারশিপ রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান অ্যাওয়ার্ডস, ডেস্টিনেশন অস্ট্রেলিয়ায়, বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক মেধাভিত্তিক ছাড়, আংশিক ও পূর্ণ স্কলারশিপ শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সহায়ক। অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরাও এগুলো পেয়ে থাকেন। পড়াশোনা চলাকালীন কাজের সুযোগ রয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসায় সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা কাজ করা যায়। সাধারণত রেস্তোরাঁ, সুপারশপ, টিউশন, ডেলিভারি বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর ক্যাজুয়াল চাকরিতে শিক্ষার্থীরা যুক্ত হন। এতে পড়াশোনার পাশাপাশি খরচ চালানো কিছুটা সহজ হয়।
বাংলাদেশ থেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে অস্ট্রেলিয়ার লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজনেস অ্যানালিটিকস নিয়ে পড়াশোনা করছেন অপূর্ব বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘এটি জীবনেরও এক নতুন অভিজ্ঞতা। নতুন দেশ, নতুন সংস্কৃতি আর নিজেকে মানিয়ে নেয়ার প্রতিদিনের সংগ্রাম। সবকিছুই আমাকে আরো শক্ত করেছে। অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর পরিবেশ। পরিষ্কার বাতাস, সবুজ প্রকৃতি, শান্ত ক্যাম্পাস শেখার আগ্রহ ও মনোযোগ অনেক বাড়িয়ে দেয়। এখানে পড়াশোনার ধরনও আলাদা; শুধু বই নয়, বরং বাস্তব সমস্যার সমাধান শেখানো হয়। বিজনেস অ্যানালিটিকস পড়ে বুঝেছি, তথ্য বিশ্লেষণ শুধু ডাটার নয়, জীবনেরও শিক্ষা দেয়। কীভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, পরিবর্তন বুঝতে হয়। অস্ট্রেলিয়া আমাকে শিখিয়েছে, সংগ্রাম থাকলেও সুযোগ অসীম, যদি শেখার মন থাকে।’
বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য দরকার হবে বেশকিছু কাগজপত্র। ভর্তির জন্য সাধারণত প্রয়োজন হয় পূর্ববর্তী শিক্ষার সনদ ও মার্কশিট, ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ যেমন আইইএলটিএস, টোফেল কিংবা পিটিই, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, সুপারিশপত্র, বৈধ পাসপোর্ট ও হালনাগাদ সিভি। এসব কাগজপত্র রেডি করে ভর্তির অফার লেটার পাওয়ার পর আবেদন করতে হয় সাবক্লাস ৫০০ স্টুডেন্ট ভিসায়। অনলাইনে আবেদন জমা দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও বায়োমেট্রিক সম্পন্ন করতে হয়। ভিসার মেয়াদ সাধারণত পড়াশোনার মেয়াদের সঙ্গে যুক্ত থাকে। ভিসার আবেদনের জন্যও দরকার হবে কিছু কাগজপত্র। ভিসার জন্য সাধারণত ভর্তির কনফার্মেশন লেটার, ফান্ডের প্রমাণ, ইংরেজি দক্ষতার সার্টিফিকেট, স্বাস্থ্য বীমা, মেডিকেল চেকআপ রিপোর্ট, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও পাসপোর্ট কপি দরকার হবে।
ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময়ও আনুষঙ্গিক কিছু খরচ রয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসার প্রসেসিংয়ে সাধারণত চার থেকে বারো সপ্তাহ লাগে। ভিসা ফি বর্তমানে প্রায় ৭১০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার। স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বীমা ও অন্য আনুষঙ্গিক খরচ আলাদাভাবে যুক্ত হয়।
অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার আগে পড়াশোনা ও জীবনযাত্রার খরচ সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকতে হবে। এসব খরচ বিভিন্ন সময়ে কমবেশি হয়ে থাকে। যা সমসাময়িক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। সাধারণত টিউশন ফি বছরে গড়ে ২৫ থেকে ৪৫ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার। জীবনযাত্রার খরচ শহরভেদে ভিন্ন—মেলবোর্ন বা সিডনিতে বছরে প্রায় ২০-২৫ হাজার ডলার প্রয়োজন হতে পারে।










