শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মোফাজ্জল হক। গ্রামের মাটিতে বেড়ে ওঠা এ তরুণ এবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে অর্জন করেছেন গৌরবময় এক স্বীকৃতি। আন্তর্জাতিক অর্গানাইজেশন অব ইয়ুথের ১১তম সম্মেলনে বিশ্বের সেরা ৬টি সামাজিক প্রকল্পের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে তার প্রজেক্ট ‘From Classroom to Community : Bridging the Gap Through Quality Learning’।
শিক্ষা ও লিঙ্গ সমতা নিয়ে বাস্তবভিত্তিক কাজের স্বীকৃতি
প্রজেক্টটি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ৪ ও ৫—গুণগত শিক্ষা ও লিঙ্গ সমতা—নিয়ে বাস্তবভিত্তিক কাজের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার হাওরাঞ্চলের তিনটি গ্রামের তিনটি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন মোফাজ্জল। শিক্ষা ব্যবস্থায় পিছিয়ে পড়া এ অঞ্চলকে সামনে এগিয়ে নিতে তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ ও আকর্ষণীয় শেখার পদ্ধতি চালু করেন, শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বগুণ উন্নয়নের জন্য সেমিনার আয়োজন করেন এবং নিজ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃতও করেন।
বিচারকদের নজর কাড়ে প্রকল্পের বাস্তব প্রয়োগ
৩০ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অর্গানাইজেশন অব ইয়ুথের ওয়েবসাইট ও ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম চ্যানেলে সেরা ১০টি প্রজেক্টের তালিকা প্রকাশ করা হয়। গত ৪ মে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে শুরু হয় চার দিনব্যাপী সম্মেলন। সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণরা নিজেদের প্রজেক্ট উপস্থাপন করছেন। ৩৭টি সেশনের মধ্য দিয়ে চলে এ আয়োজন, মোফাজ্জলের প্রজেক্ট সেই প্রতিযোগিতারই একাংশ।তালিকায় জায়গা পায় যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, পাকিস্তান, নেপালের তরুণদের প্রকল্প। বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র মনোনীত হন মোফাজ্জল। প্রকল্পের বাস্তবভিত্তিক সমাধান ও জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করায় এটি আন্তর্জাতিকভাবে বিচারকদের প্রশংসা কুড়ায়।
আগের অর্জনে অনুপ্রেরণা, ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে চলা
২০২৩ সালে মোফাজ্জল জাতিসংঘের ‘মিলেনিয়াম ফেলোশিপ’-এর জন্য মনোনীত হন এবং ‘Let’s Education Be for All’ প্রকল্পের অধীনে কাজ করেন। একই বছর মালয়েশিয়ার অ্যাওয়ারনেস-৩৬০ ফেলোশিপেও মনোনীত হন ৭০টি দেশের ৪৭০ জন প্রতিযোগীর মধ্যে থেকে। বর্তমানে তিনি ফিনল্যান্ডভিত্তিক ‘United People Global’-এর অধীনে ‘কমিউনিটি ক্যাপ্টেন’ হিসেবে কাজ করছেন। এমনকি তিনি মিলেনিয়াম ফেলোশিপের গ্লোবাল অ্যাডমিশন কমিটিতেও মনোনীত হয়ে পাকিস্তানের মেহরান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজেক্ট মূল্যায়নে অংশ নেন।
স্বপ্ন ও দায়িত্বের জায়গা থেকে পথচলা
মোফাজ্জল হক বলেন, ‘অসংখ্য প্রজেক্টের মধ্যে আমার প্রজেক্ট সেরা দশে জায়গা পেয়েছে—এটা আমার জন্য যেমন স্বস্তির, তেমনি অনুপ্রেরণারও। একটি দেশের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো দিয়ে সম্ভব নয়, প্রয়োজন দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন। সেই জন্য পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় নিয়ে আসা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’










