কেউ হাতে করে এনেছেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হৃদয়ছোঁয়া ছেলেবেলার গল্প ‘আম আঁটির ভেপু’, কেউবা তুলে দিচ্ছেন হুমায়ূন আহমেদের শেষ মুহূর্তের একান্ত অনুভবগুলোয় ভরা ‘দিনের শেষে’। বিনিময়ে কেউ পেয়ে যাচ্ছেন আমিনুল হকের ভালোবাসার চারটি ভিন্ন রঙে আঁকা ‘চার রকম ভালোবাসা’, আবার কারো হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে ম্যাক্সিম গোর্কির জীবনঘনিষ্ঠ ‘শ্রেষ্ঠ গল্প’ কিংবা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেম ও দার্শনিকতার মেলবন্ধন ‘শেষের কবিতা’।

এভাবেই বই বিনিময়ের মধ্য দিয়ে পাঠকের মাঝে তৈরি হচ্ছে নতুন বন্ধন, নতুন পাঠভ্রমণের গল্প। তরুণদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, তাদের মাঝে সাহিত্য নিয়ে আলোচনার একটি চর্চা তৈরি করা এবং পড়া শেষ হওয়া বইগুলো জমে না থেকে যেন ঘুরেফিরে নতুন পাঠকের হাতে পৌঁছায়—এ চিন্তা থেকেই চুয়েট ডিবেটিং সোসাইটি (চুয়েটডিএস) আয়োজন করেছে ‘বই বিনিময় উৎসব’।

গত বৃহস্পতিবার চুয়েট ডিবেটিং সোসাইটির আয়োজনে নবম তারুণ্য উৎসবের প্রথম দিনে বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত টিএসসির ক্যাফেটেরিয়া এলাকায় অনুষ্ঠিত হয় এ ভিন্নধর্মী অনুষ্ঠান। যেখানে যে কেউ নিজের পড়া পুরনো বই জমা দিয়ে বিনামূল্যে সংগ্রহ করতে পারছে একই ধারার অন্য একটি বই। পাঠ্যপুস্তক, কল্পসাহিত্য, প্রামাণ্যসাহিত্য, আত্মোন্নয়নমূলক, ধর্মসাহিত্য ও সাময়িক প্রকাশনা—এ ছয়টি ধারায় ভাগ করা হয় বইগুলোকে, যাতে প্রত্যেক পাঠক নিজের পছন্দমতো বই সহজেই খুঁজে নিতে পারেন।

এ উৎসব উপভোগ করতে আসা চুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সায়ীদা আতিক বলেন, চুয়েট ডিএস আয়োজিত এ বই বিনিময় উৎসবটি সত্যিই প্রশংসনীয়। এখানে বিভিন্ন জোনরার বই ছিল যেগুলো বইপ্রেমীদের সুযোগ করে দিয়েছে নিজেদের মধ্যে বই আদান-প্রদানের মাধ্যমে অনেক ধরনের বই এক্সপ্লোর করার যেটা সময়-সুযোগের অভাবে হয়তো প্রায়ই হয়ে ওঠে না। এমন সুন্দর একটি আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই।

এ উদ্যোগ সম্পর্কে চুয়েট ডিবেটিং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অনুরাগ নন্দী বলেন, ‘বই বিনিময় উৎসবে ধারণাটি মূলত বইপ্রেমীদের মধ্যে বইয়ের প্রচার এবং জ্ঞান ভাগাভাগি করার একটি প্রচেষ্টা। এখানে একটি বই যা কারো কাছে পুরনো বা অপ্রয়োজনীয়, সেটি অন্য কারো জন্য নতুন এবং মূল্যবান হয়ে উঠতে পারে। এ উৎসবে সবাই তাদের পছন্দের বই খুঁজে পেয়েছে এবং একই সঙ্গে পুরনো বইগুলো নতুন জীবন পেয়েছে।’